রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পুলিশ অফিসার্স হাউজিং (পিওএইচএস-১) সোসাইটিতে পুলিশের এক অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া একটি বাড়িতে রাতভর অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির পাশের ওই তিনতলা বাড়িতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টির আয়োজনের অভিযোগে সেখান থেকে ৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটককৃতদের মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৯ জন পুরুষ রয়েছেন। অভিযানের সময় ওই বাড়ি থেকে মদ, সিনথেটিক মাদক, সিসা ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়। বাড়িটির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির।
অভিযানের বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টির আয়োজন চলছিল—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হতো বলেও জানান তিনি। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে শুরু হওয়া এই অভিযান মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত চলে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ওই বাড়িতে তল্লাশি ও আলামত সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। তবে উদ্ধার করা মাদকের সুনির্দিষ্ট ধরন ও পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ডিবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনলাইনে বেশ কিছুদিন ধরেই এই গোপন আড্ডার প্রচারণা চলছিল। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে দূরদূরান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা ওই বাড়িতে এসে জড়ো হন। খবর পেয়ে সোমবার মধ্যরাতে সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায় ডিবির একটি দল।
এদিকে বাড়িটির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "ট্রাভেলারসহ বিভিন্ন ধরনের মানুষ অস্থায়ীভাবে থাকা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠান করার জন্য নিয়ম মেনে বাড়িটি ভাড়া নেন। দীর্ঘদিন ধরেই আমি এভাবেই বাড়িটি ভাড়া দিয়ে আসছি। বাড়িটি ব্যবহারের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেগুলোর শর্ত মেনেই সোমবার রাতের একটি জন্মদিনের পার্টি আয়োজনের জন্য বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।"
তিনি আরো বলেন, ভাড়ার শর্ত অনুযায়ী—মদ, ওয়াইন, যেকোনো ধরনের মাদক ও অবৈধ কার্যকলাপ বাড়িটিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ অবস্থায় সেখানে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয়ে থাকলে, তার সম্পূর্ণ দায় যারা ভাড়া নিয়েছেন তাদের ওপর বর্তায়।
বাড়িটির ভাড়ার নিয়মাবলীতে উল্লেখ রয়েছে, পাঁচটি শয়নকক্ষে সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ১০ জন অতিথি রাত কাটাতে পারেন। অতিরিক্ত বিছানার ব্যবস্থা করে সেখানে সর্বোচ্চ ২০ জনের থাকার সুযোগ রয়েছে এবং ১০ জনের বেশি অতিথির জন্য জনপ্রতি ৮ ডলার অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া বাড়িতে প্রবেশের সময় প্রত্যেক অতিথির জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের কপি জমা দেওয়ারও শর্ত রয়েছে। দিনের বেলায় পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ জন অতিথি আসতে পারবেন বলেও নিয়ম রয়েছে। তবে সোমবার রাতের ওই পার্টিতে ঠিক কতজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং অতিথিদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
