Published on
:
2 min read
এই সময়, খড়্গপুর: একদিকে আজ, সোমবার শো-কজে়র উত্তর দিতে হবে পুরসভাকে। আবার এ দিনই পুরপ্রধান নির্বাচন। খড়্গপুর পুরসভাকে কেন্দ্র করে জটিলতা যেন বেড়েই চলেছে। শেষ পর্যন্ত পুরসভা কী উত্তর দেয় এবং কার ভাগ্যে পুরপ্রধান হওয়ার শিকে ছেঁড়ে, সেদিকেই তাকিয়ে বিজেপি থেকে খড়্গপুরের সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি খড়্গপুর পুরসভায় তৃণমূলের চেয়াপার্সন কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন দলীয় কাউন্সিলারদের একাংশ। আস্থা ভোটে হেরে যান কল্যাণী। কারণ, অনাস্থার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন সিংহভাগ কাউন্সিলার। যদিও বিজেপি কাউন্সিলাররা ভোটদানে বিরত ছিলেন। ভোট না দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূলেরও ৪ জন কাউন্সিলার। পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রমাণিত হওয়ায় নতুন করে পুরপ্রধান নির্বাচন প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।
আজ, সোমবার পুরপ্রধান নির্বাচনের বৈঠক রয়েছে। কিন্তু কে পুরপ্রধান হবেন, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। তবে বিজেপি–তৃণমূল উভয়পক্ষই নিজেদের মতো ঘুটি সাজাতে ব্যস্ত। উল্লেখ্য, ৩৫টি ওয়ার্ডের এই পুরসভায় অনাস্থার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ২৮ জন কাউন্সিলার। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলার প্রদীপ সরকারের উদ্যোগে এই অনাস্থা আনা হয়। প্রদীপ এক সময়ে খড়্গপুরের পুরপ্রধানও ছিলেন। তাঁকে সরিয়ে কল্যাণীকে দায়িত্ব দিয়েছিল তৃণমূল। এ বার পাল্টা ময়দানে নেমে নিজের জমি ফেরাতে উদ্যোগী প্রদীপ। কিন্তু তিনি কী পুরপ্রধান হতে পারবেন? প্রদীপ বলেন, ‘কে পুরপ্রধান হবেন, তা ঠিক করবেন কাউন্সিলাররা। তবে যিনিই পুরপ্রধান হোন না কেন, আমি চাই তিনি যেন খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষের পরিকল্পনা মেনে শহরে উন্নয়নের চেষ্টা করেন।’ আর কল্যাণী বলেন, ‘যাঁরা আগে দুর্নীতি করেছেন, তাঁরা ফের দুর্নীতির জন্য চেয়ার দখলের চেষ্টায় নেমেছেন। আমি এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে রাজি নই। যা হবে দেখা যাবে।’
আবার এ দিনই শো-কজে়র উত্তর দিতে হবে পুরবোর্ডকে। কারণ, পুরসভা যে পরিষেবা দিতে ব্যর্থ তা নিয়ে জেলাশাসক রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে। সেখানে পরিষ্কার বলা রয়েছে, নিকাশি নালা থেকে আলো, আবর্জনা সাফাই, পানীয় জল সরবরাহ–– সব ক্ষেত্রেই খামতি রয়েছে পরিষেবায়। কেন এই ব্যর্থতা, সোমবারের মধ্যে তারই উত্তর দিতে বলা হয়েছে বোর্ডকে। এ ব্যাপারে বিদায়ী পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষ বলেন, ‘আমি শো-কজে়র চিঠি পেয়েছি। আজই উত্তর দেব।’ যা নিয়ে প্রদীপের কটাক্ষ, ‘বর্তমান পুরপ্রধান পরিষেবা দিতে ব্যর্থ বলেই অনাস্থা এনেছিলাম। সরকারি রিপোর্টও তাই বলছে। যে কারণে শো-কজ় করা হয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত, আমাদের দাবি ঠিক ছিল।’
তবে অনাস্থা ভোটে যেমন তারা অংশ নেয়নি, তেমনই পুরপ্রধান নির্বাচন থেকেও দূরে থাকছে বিজেপি। দলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন তিওয়ারি বলেন, ‘আমরা মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এ সব নোংরামি তৃণমূলের সংস্কৃতি। আমরা এর মধ্যে যাব না। আমাদের নেতা দিলীপ ঘোষ খড়্গপুরের বিধায়ক। তিনি খড়্গপুরের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করে চলেছেন।’
