ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক প্রযুক্তিবিদ ও ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি। গতকাল রোববার ইরানের পার্লামেন্ট তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করেছে।
ইরানের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আখলাঘির নিয়োগের প্রস্তাব রোববার পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়। পরে এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের ভোট নেওয়া হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নিয়োগের পক্ষে ২৩৭ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন।
এই নিয়োগের মাধ্যমে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহর স্থলাভিষিক্ত হলেন আখলাঘি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে নাসিরজাদেহও নিহত হন।
আখলাঘি ইরানের একজন অভিজ্ঞ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিবিদ ও ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কঠিন জ্বালানিচালিত প্রপালশন ব্যবস্থা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং সামরিক-শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। অতীতে তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে শহীদ বাঘেরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপ, অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন এবং ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন।
আখলাঘি এবং ইরানের প্রতিরক্ষা খাতের এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাঁর ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএর তথ্য অনুযায়ী, আস্থা ভোটের আগে আখলাঘি বলেছিলেন, ‘যদি আমি সংসদের আস্থা ভোট পাই, তবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এক সন্ধিক্ষণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমার কাঁধে পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন পরিস্থিতির সঠিক উপলব্ধি, বিভিন্ন ঘটনার পেছনের যুক্তি বোঝা, প্রভাবশালী প্রবণতাগুলো শনাক্ত করা এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি রাখা।’
নিয়োগ অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আখলাঘি বলেন, ‘জনগণ নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে, তারা সম্ভবত আমাদের ওপর আক্রমণ করার সাহস পাবে না। তবে যদি তারা (যুক্তরাষ্ট্র) তা করে, তবে তারা নিজেরা এবং পুরো অঞ্চল ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।’
এদিকে আখলাঘির নিয়োগের পর এক বার্তায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘সামরিক কোনো পদমর্যাদা না থাকলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে আখলাঘির ৪২ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইরানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাঁর অবদান অনেক। আমি তাঁর সাফল্য কামনা করছি।’
