পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শুরু ও সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নদীর পানিপ্রবাহ সচল রাখা, পানির সংকট নিরসন এবং দেশের মানুষের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, রাজশাহীর পদ্মা নদী ক্রমেই শুকিয়ে যাচ্ছে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই নদী পদ্মা ও তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পানির সংকট কমানোর পাশাপাশি পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশের মানুষের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শুরু করে তা শেষ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল। সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে ধাপে ধাপে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। চলতি বছর দেশের ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি ফসলের বিমা এবং ব্যাংকঋণ গ্রহণের সুযোগ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষক বাঁচলে দেশের কৃষি বাঁচবে—এ বিশ্বাস থেকেই সরকার কৃষকদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছে।
তারেক রহমান বলেন, সমগ্র দেশে আমরা আবার খাল খনন এবং নদী সংস্কার বা নদী খনন কর্মসূচি শুরু করব। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছর আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল গত আট মাসে আমরা খনন কার্য সম্পন্ন করেছি। এই কাজ করার মাধ্যমে একদিকে যেরকম কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবে। সেচের সুবিধা পাবে। রাজশাহীর মানুষ জানে কিভাবে এখানকার ভূগর্ভস্থ পানি কত নিচে নেমে গিয়েছে। বহু মানুষের সেই জন্য পানির কষ্ট সেই পানিও ধীরে ধীরে আবার রিচার্জ হবে এখানে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে ১৩০০ শয্যা রয়েছে। এটি ২৫০০ হবে। বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি উপজেলায় যে উপজেলা হাসপাতাল আছে এটির বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে ৫০ বেড। এবার যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপিকে বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত করেছে সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি প্রত্যেকটা উপজেলা হাসপাতাল ৫০ বেড থেকে আমরা ১৫০ বেডের হাসপাতালে তৈরি করব। যাতে করে গ্রামের মানুষ অল্পস্বল্প অসুখে কষ্ট করে দূরের সদর হাসপাতালে না যেতে হয়।
একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে অনেক ব্যবসায়ী আছেন জনসভার মধ্যে। ছোটখাটো মাঝারি বড় অনেক ব্যবসায়ী আছেন। একটি নরমাল কথা- যদি আপনার একটি দোকান থাকে দোকানের সামনে যদি আপনার কোন রকমের সমস্যা হয়, কোনো রকমের হইচই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে যায় সেদিন কি আপনার বনি (ব্যবসা) ভালো হবে? বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আনতে চেষ্টা করছে। দেশে নিরাপত্তা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার চাইছে বন্ধ মিল কারখানাগুলো চালু করতে। বিএনপি সরকার চাইছে কৃষকদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে। বিএনপি সরকার চাইছে শ্রমিক ভাইদেরকে দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেশে হোক বিদেশে হোক কর্মসংস্থান তৈরি করার চেষ্টা করতে।
তিনি বলেন, বিএনপি চাইছে বেকারত্বের যে অভিশাপ সেটি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে। কিন্তু আমরা দেখেছি কতগুলো মানুষ, একটি বিশেষ দল, কতগুলো দলকে সাথে নিয়ে তারা রাস্তায়-রাজপথের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমরা দেশি উদ্যোক্তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে আনার চেষ্টা করছি, যে কীভাবে বন্ধ কল কারখানাগুলো চালু করা যায়। যাতে করে বাংলাদেশের বেকার শ্রমিকরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু এই সকল কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আমরা কতগুলো দল উঠে পড়ে লেগেছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
