দোয়া হলো মুমিনের হাতিয়ার এবং ইবাদতের মূল। বান্দা যখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দরবারে হাত তোলেন, তখন সৃষ্টিকর্তা অত্যন্ত খুশি হন। ইসলাম ধর্মে দোয়া কবুলের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সময়কে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বিশেষ মুহূর্তগুলোতে আল্লাহর রহমতের দরজা উন্মুক্ত থাকে এবং বান্দার প্রার্থনা দ্রুত কবুল হয়।
কোরআনের ভাষায়, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। আর যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।’ (সুরা মুমিন: ৬০)
আল্লাহর কাছে চাইতে হয় দোয়ার মাধ্যমে। নতচিত্তে। অবনত মস্তকে। রব্বেকা’বা ইরশাদ করেন, ‘আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে (সুরা বাকারা: ১৮৬)। হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, দোয়া সব ইবাদতের মূল।
দোয়া কবুলের নির্ধারিত কোনো মুহূর্ত নেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা, ইশা থেকে ফজর- বান্দা যখনই আল্লাহর দরবারে হাত পাতে, তিনি সাড়া দেন। তবে কিছু বিশেষ মুহূর্তে আল্লাহ বান্দার মোনাজাত বিশেষভাবে কবুল করেন। রহমতের পেয়ালা ঢেলে দেন। বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, এই বিশেষ মুহূর্তগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো ভোররাত।
চলুন জেনে নিই কোরআন ও হাদিসের আলোকে দোয়া কবুলের এমন কিছু বিশেষ সময় সম্পর্কে-
১. রাতের শেষ তৃতীয়াংশ (তাহাজ্জুদের সময়)
রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দোয়া কবুলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময় আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাকে ডাকতে থাকেন— "কে আছো আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছো আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কে আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?" (বুখারি ও মুসলিম)।
২. জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত
জুমার দিনকে সাইয়্যিদুল আইয়্যাম বা দিনসমূহের সর্দার বলা হয়। এই দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট হাদিস রয়েছে। জুমার দিন আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টিকে দোয়া কবুলের মোক্ষম সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন অধিকাংশ ইসলামি স্কলার।
৩. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়
আজান শেষ হওয়ার পর থেকে ইকামত শুরু হওয়া পর্যন্ত সময়ের দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। নবীজি (সা.) বলেছেন, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কখনো রদ হয় না (তিরমিজি ও আবু দাউদ)। তাই এই সংক্ষিপ্ত সময়টুকু জিকির ও দোয়ায় কাটানো অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
৪. সেজদারত অবস্থায়
বান্দা যখন সিজদায় অবনমিত হয়, তখন সে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "বান্দা যখন তার রবের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তা হলো সিজদার অবস্থা। সুতরাং তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।" (মুসলিম)।
৫. ফরজ নামাজের পর
প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর আগের মুহূর্ত এবং সালামের পরের সময়টি দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসূরা পড়ার পর সালামের আগে দোয়া করার বিশেষ তাগিদ রয়েছে।
দোয়া কবুলের জন্য সময়ের পাশাপাশি অন্তরের আকুতি, হালাল রিজিক অর্জন এবং বিশ্বাসের দৃঢ়তা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে এই বরকতময় মুহূর্তগুলোতে বেশি বেশি ইস্তিগফার ও প্রার্থনায় মশগুল হওয়া প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
