অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন সহোদর ভাই মুসআব মোহাম্মদ আজাদ, সাদ মোহাম্মদ আজাদ ও মুআজ মোহাম্মদ আজাদ। একই অনুষ্ঠানে হিফজ সম্পন্নের স্বীকৃতি পেয়েছেন হাফেজ ইব্রাহিম খান। চার নবীন হাফেজের এ অর্জনে তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটিতে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাদ মাগরিব সিডনির ব্যাংকসটাউনে হিফজ সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে তাদের সম্মাননা জানানো হয়। দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন।
তিন সহোদর ভাই দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়ায় হিফজ শিক্ষা গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, হাফেজ ইব্রাহিম খান হিফজ সম্পন্ন করেছেন দার আল হুফফাজ একাডেমিতে। প্রতিষ্ঠান দুটি সিডনির ব্যাংকসটাউনের ১ মোনা স্ট্রিটে একই স্থানে অবস্থিত।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়ার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মুফতি শায়েখ সাফফাত আনোয়ার। অনুষ্ঠানে আলেমরা পবিত্র কোরআনের মর্যাদা, হিফজের গুরুত্ব, হাদিসের শিক্ষা এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে ইসলামী মূল্যবোধে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নেন মাওলানা মোহাম্মদ কান, মাওলানা ইশফাক, মাওলানা আজওয়ারউদ্দিন, শায়েখ তারিক আল-বিকায়ি ও কারি সাজ্জাদসহ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা। তারা নবীন হাফেজদের অভিনন্দন জানান এবং ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সমাজে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়ার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মুফতি শায়েখ সাফফাত আনোয়ার জানান, মুসআব মোহাম্মদ আজাদ, সাদ মোহাম্মদ আজাদ ও মুআজ মোহাম্মদ আজাদ বিশেষ ইসলামী জ্ঞান অর্জন ও দ্বীনি শিক্ষার উদ্দেশ্যে শিগগিরই ফিজি যাবেন। পরিবারের পক্ষ থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হিফজ সম্পন্নের পরও তাঁদের দ্বীনি শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
তিন ভাইয়ের বাবা মোহাম্মাদ আজাদ সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পরিবারের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সাফল্যের জন্য প্রথমেই পরিবারের নিয়ত সহিহ বা বিশুদ্ধ হতে হবে। ঘরে দ্বীনি পরিবেশ ও ইসলামী চর্চা চালু রাখতে হবে। সন্তানদের পাশাপাশি মা-বাবাকেও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সন্তানকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলা শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টার বিষয় নয়। এর সঙ্গে মা-বাবার দোয়া, ধৈর্য, সময় ও আন্তরিকতার পাশাপাশি শিক্ষকদের নিবেদিত প্রচেষ্টা এবং পরিবারের সম্মিলিত সহযোগিতাও জড়িত।
দারুল নাসিহাহ অস্ট্রেলিয়া ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও আধ্যাত্মিক বিকাশের জন্য সমন্বিত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো, ইসলামী জ্ঞান সম্পর্কে গভীর ধারণা তৈরি করা এবং দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ বাস্তবায়নে মানুষকে উৎসাহিত করা।
পুরুষ, নারী ও শিশুদের ইসলামী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি এবং দাওয়াহ কার্যক্রমের মাধ্যমে ইসলামের শিক্ষা তুলে ধরার ওপর প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দেয়। ইসলামী ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে মানসম্মত দ্বীনি শিক্ষা প্রদান ও আধ্যাত্মিক বিকাশে সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলাও প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত লক্ষ্য।
অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বেড়ে ওঠা মুসলিম শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় পরিচয়, নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখছে। পারিবারিক সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় নতুন প্রজন্মকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা সম্পর্কে সচেতন করতে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে চার নবীন হাফেজের ভবিষ্যৎ, দ্বীনি জীবনে অগ্রগতি এবং পরিবার ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার তাওফিক কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
মুসআব, সাদ ও মুআজের হিফজ সম্পন্নের ঘটনা প্রবাসে সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার প্রত্যাশী পরিবারগুলোর জন্য অনুপ্রেরণার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। একই অনুষ্ঠানে হাফেজ ইব্রাহিম খানের হিফজ সম্পন্নের স্বীকৃতিও উদ্যাপন করা হয়।
