রাজবাড়ী: রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর পিয়ারুল হত্যা মামলায় শামীম আহসান (৩৬) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে শামীম আহসানকে গ্রেফতার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা করা হয়েছে।
গ্রেফতার শামীম আহসান রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর বারইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আলতাফ হোসেন মিলিটারী।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষে মসজিদের উত্তর পাশের গেটসংলগ্ন পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন পিয়ারুল। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সেখানে আসেন। তাদের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে একটি গুলি তার বুকের বাঁ পাশে লাগে।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় পিয়ারুলকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফারজানা হক বাদী হয়ে ১৭ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ১৯ অক্টোবর সুমন মন্ডল (৩৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ওইদিন রাতে শামীম আহসানকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে শামীমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর খানখানাপুরের শেখপাড়া এলাকায় তার বাবার মালিকানাধীন একটি মুরগির খামারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে শামীমের দেখানো ও নিজ হাতে বের করে দেওয়া অবস্থায় সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা প্রতিটি কার্তুজের পেছনে ইংরেজিতে ‘৭.৬৫’ ও ‘K.F’ লেখা রয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, গুলি উদ্ধারের ঘটনায় শামীম আহসানের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সদর থানায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পিয়ারুল হত্যা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
