কালবেলা · সাধারণ
‘আমার বাবা তো কারও ক্ষতি করেননি, কেন তাকে হত্যা করা হলো?’
২১/১০/২০২৬

‘আমার বাবা কখনো কারও ক্ষতি করেননি। তাহলে তাকে কেন হত্যা করা হলো?’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন প্রশ্ন রংপুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার ফখরুল আলম রতনের মেয়ে রওশন জাহান রজনীর (১৫)।
জানা গেছে, রজনীর বাবা ফখরুল আলম রতন (৫০) ছিলেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন প্রতিষ্ঠিত রংপুরের পীরগাছার নশিক ট্রাস্ট একাডেমির সুপারিনটেনডেন্ট।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে কাউনিয়ার হরিচরণ লস্কর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে তাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে সন্ধ্যায় পীরগাছার নটাবাড়ি গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
সরেজমিনে নিহতের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের কান্না থামছে না। বাবাকে হারিয়ে বারবার একই প্রশ্ন করেন কিশোরী রজনী। তিনি জানান, যারা বাবাকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফখরুল আলম রতন চার ভাইয়ের মধ্যে একজন। তার তিন ভাই চাকরির কারণে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের বাইরে থাকেন। ছোট ভাই ফরহাদ হোসেন নয়ন গ্রামের বাড়িতে থাকেন। রতন নশিক ট্রাস্ট একাডেমিতে চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে পীরগাছার নটাবাড়িতে বসবাস করতেন। অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে দেখতে সোমবার কাউনিয়ার গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের একটি দোকানে চা খেতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে স্বজনদের অভিযোগ। এ সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছোট ভাই নয়নের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অজুহাতে তাদের পরিবারের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ওই বছরের ৮ আগস্ট ভোরে চার ভাইয়ের বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুকুরের মাছও লুট করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের। এসব ঘটনায় বিচার চেয়ে আদালতে মামলা ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও তারা প্রতিকার পাননি বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় শিবু কুঠিরপাড়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মজনু মিয়া (৩০) এলাকায় ‘কোহিনুর বাহিনী’ গঠন করে প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই রতনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের এক বড় ভাই বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়-অত্যাচারের শিকার হয়েছি। কোথাও ন্যায়বিচার পাইনি। এখন আমার ভাইকেও হত্যা করা হলো। এর বিচার কে করবে?’
নিহতের মেয়ে রওশন জাহান রজনী বলে, ‘আমি হত্যার বিচার চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আর কোনো সন্তান যেন সন্ত্রাসীদের কারণে পিতৃহারা না হয়।’
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মন্ডল বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗