
আড়াইহাজারে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মেলবন্ধন
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। হিন্দু - মুসলিমের মধ্যে কোন আচার অনুষ্ঠানে কোন বিভেদ নেই- এই চেতনাকে ধারণ করে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দুই সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তরিক অংশগ্রহণে উৎসবের পরিবেশ হয়ে উঠেছে আরও প্রাণবন্ত।
এ বছর আড়াইহাজার উপজেলায় মোট ৩৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। পূজাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পূজার সার্বিক পরিবেশ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাইনাদী শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি গৌতম পাল ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম চনদ্র চন্দ বলেন, " রাইনাদীতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে বসবাস করে আসছি। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি এখন সবার একত্রিত হওয়ার উপলক্ষ।এ পূজার সময় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আমাদের উভয় সম্প্রদায়ের বন্ধু বান্ধব একত্রিত হয়ে পরষ্পরের খোঁজখবর নেন, সহযোগিতা করেন এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। এ ধরনের সম্প্রীতি আমাদের সমাজের শক্তি। আমরা চাই, ভবিষ্যতেও সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করব এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই বন্ধন অটুট রাখব।”
রাইনাদী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন ও সোনা মিয়া বলেন, “আমরা সবাই একই এলাকার মানুষ। ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার সম্পর্ক রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা দুর্গাপূজা উদযাপন করেন, আর আমরা তাদের আনন্দের অংশীদার হই। একে অপরের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের ঐতিহ্য। কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বিভেদ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই।”
স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থান একটি সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। আড়াইহাজারের বিভিন্ন পূজামণ্ডপকে ঘিরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের আন্তরিক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক সম্পর্ক অটুট থাকলে ধর্মীয় ভিন্নতা কখনোই মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে না।
শারদীয় দুর্গোৎসবের এই আনন্দঘন পরিবেশে আড়াইহাজারের মানুষ আবারও সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিচ্ছেন। সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
পুজায় প্রতিটি মন্ডপে সরকারী বরাদ্দকৃত চাল ও নগদ অর্থ সঠিক ভাবে বিতরণ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান উভয়ে জানান।
