‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এর মঞ্চ থেকে অভিনয়ের নতুন যাত্রা শুরু করেছেন বিদুষী বর্ণিতা। সুন্দরী প্রতিযোগিতার মুকুট জিতে স্বল্প বিরতি নিয়ে ওয়েব ফিল্মের মাধ্যমে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ নিয়ে দর্শকদের মুখোমুখি হবেন তিনি। আগামী ২৯ অক্টোবর আইস্ক্রিনে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওয়েব ফিল্মটি। মুক্তির আগে এলো এর ট্রেলার। প্রকাশিত ট্রেলারটিতে তিন জোড়া কাপলের সম্পর্কের নানা সমীকরণ দেখা গেছে। এ নিয়ে রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন তরুণ এই অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিনহাজুর রহমান নয়ন
‘ক্যাফে আমব্রেলা’ নিয়ে জানতে চাই-
আমার জন্য খুবই স্পেশাল একটা কাজ, কারণ এই কাজের মধ্য দিয়েই আমি এত গুণী একজন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, তাও আবার আমার ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে। লাক্স সুপারস্টারের মাধ্যমে এই সুযোগটা পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। ট্রেলার থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছি।
আপনার চরিত্রটা কেমন?
এখানে আমার চরিত্রের নাম সামিরা। সে একজন অভিনেত্রী, আর বাস্তব জীবনে আমি তো অভিনয়ের জগতে একেবারেই নতুন, নিজের এই জার্নিটা মাত্র শুরু করেছি। সেদিক থেকে সামিরা আমার থেকে অনেকটাই আলাদা। তাই চরিত্রটা আমার জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, আবার একইসঙ্গে খুব মজারও ছিল। একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের মানুষের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি আর জীবনকে বোঝার এবং পর্দায় ফুটিয়ে তোলার অভিজ্ঞতাটা আমার কাছে দারুণ ছিল। সামিরার গল্পে ভালোবাসা, সম্পর্কের মধ্যে কম্প্রোমাইজ, নিজের কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো দেখা যাবে। আমার মনে হয়, এই বিষয়গুলো অনেকের জীবনেই কোনো না কোনোভাবে প্রাসঙ্গিক। মানুষ রিলেট করতে পারবে।
পরিচালকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
শিহাব শাহীন স্যারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা আমার জন্য অবিস্মরণীয়। উনি অসাধারণ একজন পরিচালক। উনার কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, চরিত্র নিয়ে ভাবনা এবং গল্পকে পর্দায় তুলে ধরার প্রক্রিয়াটা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেলাম। উনি আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু বুঝিয়েছেন এবং শেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন একজন পরিচালকের সঙ্গে এত কাছ থেকে কাজ করে শেখার সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার। লাক্সের মাধ্যমে এই সুযোগটা না পেলে হয়তো এত অল্প সময়ে এমন একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব হতো না। আমি এই সুযোগটার জন্য সত্যিই অনেক কৃতজ্ঞ।
আর সহশিল্পীরদের সঙ্গে?
আমার সহশিল্পীদের সঙ্গেও কাজ করার অভিজ্ঞতা খুব ভালো ছিল। আমার লাক্সের তিন বন্ধুর সঙ্গে আবার একসঙ্গে কাজ করতে পারাটা অন্যরকম আনন্দের ছিল। লাক্সের পর পার্থ ভাইয়ের সঙ্গেও আবার কাজ করার সুযোগ হয়েছে, যেটা খুব ভালো লেগেছে। আর তৌসিফ ভাইয়ের কথা আলাদাভাবে বলতেই হয়। উনি ভীষণ ভালো একজন মানুষ, খুবই আন্তরিক এবং সহযোগিতাপরায়ণ। শুটিংয়ের সময় উনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন, অনেক কিছু বুঝতে সাহায্য করেছেন। আমার মতো একজন নতুন অভিনেত্রীর জন্য সহশিল্পীদের কাছ থেকে এমন সহযোগিতা পাওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। উনার কাছ থেকে যে সহযোগিতা ও আন্তরিকতা পেয়েছি, তার জন্য আমি অনেক কৃতজ্ঞ। নতুন একটা কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শেখার পাশাপাশি সবার সঙ্গে সুন্দর কিছু সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে।
এতে কী বৈচিত্র্য থাকছে?
ক্যাফে আমব্রেলার আরেকটা ভালো লাগার দিক হলো, এখানে একাধিক জুটির গল্প রয়েছে, আর প্রতিটি গল্পের নিজস্বতা আছে। ভালোবাসা, সম্পর্ক, পরিবার, ক্যারিয়ার, জীবনের বিভিন্ন দিককে ঘিরে গল্পগুলো এগিয়েছে। আমার মনে হয়, এই বৈচিত্র্য দর্শকদের জন্য কাজটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। প্রত্যেকে নিজের জীবনের সঙ্গে মেলে এমন কিছু না কিছু হয়তো খুঁজে পাবেন। দর্শকরা যখন কাজটা দেখবেন, তখন তারা আমাদের চরিত্রগুলোকে কীভাবে গ্রহণ করেন, কোন গল্পের সঙ্গে নিজেদের বেশি মেলাতে পারেন, সেটা দেখার জন্য আমি খুবই আগ্রহী।
