মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীছবি: ফেসবুক
Published on
:
2 min read
কুদ্দুস আফ্রাদ
বাংলাদেশের পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে, তাঁকে গার্ড অফ অনার দিতে এবং লাশ সমাহিত করতে পিরোজপুরে নিয়ে যাওয়া হলে এক বিপাকে পড়তে হয়েছে এই বীর যোদ্ধার পরিবারকে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, জামায়াত নেতা মৌলানা দেলোয়ার হোসেন সাইদীর বিরুদ্ধে মানবতা-বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন মানিক পশারী। যে কারণে এই মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে ও সমাহিত করতে বাধা দিচ্ছে জামায়াতের নেতারা। বাধার মুখে পুলিশ লাইনের ভিতরে গোপনে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তবে নিরাপত্তার আশঙ্কায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেলা পুলিশ লাইনের বাইরে আসতে পারেননি মৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।
পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট জামায়াতের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের পরে মানিক পশারী পলাতক ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। শনিবার সকাল ১০টায় সেখানে মৃত্যুবরণ করলে দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তাঁকে গার্ড অব অনারের জন্য আনা হয়। সেখানে স্থানীয় জামায়াত নেতারা বাধা দেন।
মানিক পশারীর জামাই ফারুক হোসেনের দাবি, ‘উনি (শ্বশুর) একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা। একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে কোনও বরফ ছাড়া ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখার পরে গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে তাঁর দেহ। তারপর, আমাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করলেও, শেষকৃত্যের দায়িত্ব নেয়নি প্রশাসন। এ ব্যাপারটি কী ভাবে করা যাবে, তা নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।’
বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা ও হেনস্থা করা হয়। বৃদ্ধ এক মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো হয়েছিল। এক মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়ে আগুন জ্বালানোর ঘটনাও ঘটেছিল। নির্বাচনের পরে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের আমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে আশা করা গেলেও মানিক পশারীর মৃত্যু প্রমাণ করল, মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী জামায়াতই বিএনপির সমান প্রভাবশালী এই আমলেও।
