রোনেন বারের মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে শিন বেত কর্মকর্তারা গাজা পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনীকে তথ্য দিতে শুরু করেন। রাত ২টায় সম্ভাব্য সীমিত হামলা মোকাবেলায় সংস্থাটির তেকিলা ইউনিটকে প্রস্তুত করা হয়
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে জানার পরও তাকে সতর্ক করেননি— প্রধানমন্ত্রীর এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে গত বুধবার মামলাটি করেন তিনি। এতে ৩০ লাখ শেকেল বা ৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলায় ৭ অক্টোবর ভোরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামরিক সচিবালয়কে হামলার বিষয়ে অবহিত করতে শিন বেতের নেয়া পদক্ষেপের বিবরণ দিয়েছেন রোনেন। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগের দায়িত্বে ছিল সামরিক সচিবালয়। হামলার আগের কয়েক মাসে নেতানিয়াহুকে দেয়া একাধিক সতর্কবার্তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
রোনেন বারের ভাষ্য, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও বিচারব্যবস্থায় সংস্কার আনার উদ্যোগকে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখছিল হামাস। এতে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছিল। তার দাবি, সতর্কবার্তা, সুপারিশ ও অভিযান পরিকল্পনা উপেক্ষা করেছিলেন নেতানিয়াহু। আদালতে নিজের বক্তব্যের পক্ষে লিখিত নথি উপস্থাপন করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, ৭ অক্টোবরের আগের ব্যর্থতা ও অপরাধের দায় তার ওপর চাপাতে রোনেন বারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে বামপন্থী গণমাধ্যম। তার দাবি, হামলার আগের রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান হারজি হালেভি ও সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান আহারন হালিভার সঙ্গে কথা বললেও রোনেন বার তাকে সতর্ক করেননি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে শিন বেত কর্মকর্তারা গাজা পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনীকে তথ্য দিতে শুরু করেন। রাত ২টায় সম্ভাব্য সীমিত হামলা মোকাবেলায় সংস্থাটির তেকিলা ইউনিটকে প্রস্তুত করা হয়। রাত ৩টা ৩ মিনিটে হামাসের সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক তৎপরতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। তবে তখন কেউই পূর্ণমাত্রার হামলার আশঙ্কা করেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রোনেন বারের দাবি, ৭ অক্টোবর ভোরে নেতানিয়াহুর সামরিক সচিবালয়কে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। তার অভিযোগ, আগের কয়েক মাসে হামাসের ক্রমবর্ধমান হুমকি ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করলেও নেতানিয়াহু গাজায় উত্তেজনা এড়ানোর ওপর জোর দেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। ওই হামলার ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনে এখনো রাজি হননি নেতানিয়াহু। অন্যদিকে ওই হামলার পর ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় ৭৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হন, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া গাজার বেশির ভাগ অংশ পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।
