উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিমাশিল্পীরা নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। কেউ প্রতিমার গায়ে মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন, কেউ করছেন সূক্ষ্ম কারুকাজ। আবার কেউ রং-তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুখাবয়ব, চোখ, চুল ও অলংকার ফুটিয়ে তুলছেন। খড়, বাঁশ ও মাটির কাঠামোর ওপর শিল্পীদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে প্রতিমা। কোনো কোনো মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ, চলছে শেষ পর্যায়ের সৌন্দর্যবর্ধন।
পাথরঘাটা উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি বাবু শ্রী অরুণ কর্মকার জানান, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এবার ৪৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করা হচ্ছে।
পাথরঘাটা সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী কালীমন্দির (কালীবাড়ি) ও কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট টিটপ কুমার রায় (বিটুল) বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও দুর্গোৎসবকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রতিমাশিল্পীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও নিরাপত্তার স্বার্থে পূজামণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মা দুর্গার আগমন দেশের অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সব জীবের মঙ্গল বয়ে আনবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পাথরঘাটা উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক সুরেন্দ্রনাথ দাস বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পূজার সময় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই সচেষ্ট রয়েছেন। প্রতিমাশিল্পী গোবিন্দ পাল বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করে মণ্ডপে স্থাপন করতে হবে। এ কারণে শেষ সময়ে কাজের চাপ বেড়েছে। প্রতিমা প্রস্তুত করতে তাঁরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন।
পাথরঘাটা সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী কালীমন্দির ও কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পুরোহিত চিত্তরঞ্জন চক্রবর্তী জানান, সনাতন পঞ্জিকা অনুযায়ী গত ১০ অক্টোবর মহালয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর বোধন ও ষষ্ঠী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৭ অক্টোবর সপ্তমী, ১৮ অক্টোবর অষ্টমী, ১৯ অক্টোবর মহা অষ্টমী ও সন্ধিপূজা এবং ২০ অক্টোবর মহানবমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এ বছর দেবীর আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল জানান, দুর্গোৎসব উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে উপজেলার সব পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারও পাথরঘাটায় শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।
The post পাথরঘাটায় দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, ৪৫ মণ্ডপে উৎসবের আয়োজন appeared first on ভোরের চেতনা.
