সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একটার পর একটা মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেই চলছে। এসব ঘটনা সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কিছু দিন পরপরই একের পর এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একটার পর একটা মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেই চলছে। এসব ঘটনা সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কিছু দিন পরপরই একের পর এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। পারিবারিক কলহ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ডাকাতি, এমনকি অবুঝ শিশুদের ওপর চালানো নির্যাতন ও হত্যা—সব মিলিয়ে দেশে যেন এক অঘোষিত আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—নিরাপত্তা কোথায়? অপরাধের এই ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই নির্দেশ করে না, বরং এটি আমাদের সমাজব্যবস্থা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর ধসের এক অশনিসংকেত।
সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর ধরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অপরাধের বিভৎসতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না অপরাধীরা, বরং আলামত গোপন করতে লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করা, পুড়িয়ে ফেলা, কিংবা অত্যন্ত নিষ্ঠুর পন্থায় নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে।
গত মাসের (সেপ্টেম্বর) শেষের দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা মেলে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতেই খুন হয় অবুঝ শিশুটি। এনরপর কুমিল্লাসহ দেশের আরও কয়েকটি জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই চলতি মাসে ঘটেছে আরও কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য নেত্রকোণার দুর্গাপুরে আইপিটিভি ‘রূপসী বাংলা’-র প্রতিনিধি এবং অনুসন্ধানী ফেসবুক পেজ ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’-এর পরিচালক সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে প্রকাশ্যে গুলী করে হত্যা করে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত। এদিকে, সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে দুই দফায় মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই জেলার তালায় মাছের ঘেরে চোর সন্দেহে ক্ষিতিশ মণ্ডল নামের এক ঘের ব্যবসায়ীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে, কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় জান্নাতুল তাজমিন নামের সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণের পর ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ধানক্ষেতে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া সুনামগঞ্জে পারিবারিক কলহ এবং মানসিক সমস্যার জেরে মাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে এক ছেলের বিরুদ্ধে।
এদিকে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে হত্যাকাণ্ড প্রায়ই ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলী করে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় কলমাকান্দা পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের তেলনজিয়া বাজারে দোকানে বসে থাকা সাংবাদিক বেসরকারি আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে একদল দুর্বৃত্ত গুলী করে হত্যা করে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি বলেছেন, দেশে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রায়ই ঘটছে এবং নাগরিকেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অন্যদিকে, সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই জামায়াতে ইসলামীকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্লিপ্ততা ও অপরাধীদের প্রতি প্রশ্রয়মূলক আচরণের কারণে দেশে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। সাতক্ষীরায় ‘কথিত’ ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণ দাবি করেছেন তিনি। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন হাসনাত কাইয়ূম। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে-দেশে অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে কাজ করছে গভীর সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা কারণ। যেকোনো সমাজে অপরাধ দমনের প্রধানতম হাতিয়ার হলো আইনের কঠোর ও দ্রুত বাস্তবায়ন। কিন্তু আমাদের দেশে অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় রূপ নেয়। বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতি, তদন্তে ত্রুটি এবং ক্ষেত্রবিশেষে অপরাধীদের রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা অপরাধীদের দুঃসাহস বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যখন অপরাধী দেখে যে অপরাধ করে সহজেই পার পাওয়া যায়, তখন অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক।
আধুনিক প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, সহনশীলতার অভাব এবং দ্রুত ধনাঢ্য হওয়ার প্রবণতা মানুষের মানসিক ভারসাম্য ও মানবিকবোধকে ধুলিসাৎ করে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘাতময় দৃশ্য ও উগ্র উপাদানের অবাধ উপস্থিতি মানুষের মনকে সহিংসতায় অভ্যস্ত করে তুলছে। সামান্যতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠা এবং চরম হিংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা সমাজে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও দেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একটি বড় অংশের পেছনে কাজ করছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। ইয়াবা, আইস এবং নানা ধরনের রাসায়নিক মাদকের গ্রাসে তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা মাদকের টাকার জন্য নিজ পরিবারের সদস্যদের হত্যা করতেও দ্বিধা করে না। তাছাড়া মাদক কারাবারের নিয়ন্ত্রণ ও টাকার ভাগাভাগি নিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও খুন। অন্যদিকে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক বৈষম্যের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর মানসিক চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই হতাশা ও ক্ষোভ অনেক সময় চরম হিংস্রতায় রূপ নেয়, যার পরিণতি দাঁড়ায় হত্যাকাণ্ড বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। সমাজ ও পরিবারের ভিত্তি বলে পরিচিত বিশ্বাস ও পরম মমতার জায়গায় এখন হানা দিয়েছে নৃশংসতা। সামান্য তর্কাতর্কি, পারিবারিক জমিজমার বিরোধ কিংবা পরকীয়া সম্পর্কের জেরে নিজ সন্তান, স্বামী, স্ত্রী কিংবা জন্মদাতা মা-বাবাকে হত্যার ঘটনা নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিশোর গ্যাং ও গ্যাং কালচার : দেশের বড় বড় শহর থেকে শুরু করে মফস্বল এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে ‘কিশোর গ্যাং’-এর ত্রাস। তুচ্ছ কিশোরীঘটিত বিষয়, সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করা কিংবা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোররা ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে এবং নৃশংসভাবে হত্যা করছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক হিংস্রতা : নির্বাচন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে ঘিরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। অপরাধীরা প্রকাশ্য দিবালোকে জনসম্মুখে মানুষকে কুপিয়ে বা গুলী করে হত্যা করতেও দ্বিধা করছে না।
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলী করে হত্যা
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলীতে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিতেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ৮টার দিকে একটি দোকানে অন্যদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন আলিফ। এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলী চালায়। গুলীর শব্দে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আলিফকে গুরুতর আহত অবস্থায় দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জে মাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে রেজিনা বেগম (৭৪) নামে এক বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে নুর আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রেজিনা বেগম ওই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নুর আলম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে হত্যা
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বলেছেন, ‘বিচারক মমিনুল হকের কাছে আসামি সুমন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সরকারের দাবি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে
দেশে একের পর এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি, ধর্ষণসহ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটলেও সরকার তা মানতে নারাজ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে কমিটির সদস্যরা এ সন্তোষ প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠকে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় এই মন্তব্য করা হয়।
