শিশুশিল্পী হিসেবে সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছিলেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘কাবুলিওয়ালা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। অভিনয়ে আসার আগে বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে পরিচিতি পান তিনি। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে শিশুশিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন দীঘি। সময়ের সঙ্গে নায়িকা হিসেবেও এগিয়ে চলেছেন তিনি। অভিনয়জীবনের দুই দশকে এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পেলেন সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি।
নিউইয়র্কে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৫তম ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডের আসর। এতে ওয়েব ফিল্ম ‘প্রিয় প্রাক্তন’-এ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন দীঘি। ইফতেখার মাহমুদ ওসিন পরিচালিত ওয়েব ফিল্মটিতে তমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সম্প্রতি বঙ্গ প্লাটফর্মে মুক্তি পাওয়া ফিল্মটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন ইয়াশ রোহান।
কাবুলিওয়ালার পর ‘চাচ্চু’, ‘দাদী মা’, ‘সাজঘর’, ‘অবুঝ শিশু’, ‘কপাল’, ‘বাবা আমার বাবা’ ও ‘এক টাকার বউ’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন দীঘি। শিশুশিল্পী হিসেবে ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘এক টাকার বউ’ ও ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেত্রী হিসেবে দীঘির প্রথম সিনেমা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘তুমি আছো তুমি নেই’। এরপর ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’, ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’, ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’ ও ‘জংলি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। বড় পর্দার পাশাপাশি ওয়েব ফিল্মেও কাজ করেছেন দীঘি। সুমন ধর পরিচালিত ‘চিঠি’ ছিল তার অভিনীত প্রথম ওয়েব ফিল্ম। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন ইয়াশ রোহান।
শৈশবের স্মৃতি ও অভিনয়ে আসার গল্প বলতে গিয়ে দীঘি বলেন, ‘আমার শিশুবেলাটা ভীষণ বর্ণাঢ্য ছিল। সবাই আমাকে অনেক স্নেহ করত। আম্মুর আঙুল ধরেই সিনেমার অলিগলিতে আমার পথচলা শুরু। একটু একটু করে অভিনয়ে আসা। বাবার সমর্থনও ছিল। একসময় আম্মু আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমাদের জীবনে ভীষণ শূন্যতা তৈরি হলো। তার পরও জীবনের নিয়মে জীবন এগিয়ে যায়। বাবা সবকিছু সামলে নেয়ার চেষ্টা করেন। এখন আমার পুরো পৃথিবীজুড়েই বাবা। তিনিও আমাকে আগলে রাখার চেষ্টা করেন। আমিও ভালো ভালো কাজ করার চেষ্টা করছি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন দীঘি। এক সপ্তাহ পর দেশে ফেরার কথা তার।
