আগের দিনে বড় লাফ দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সামান্য কমেছে। সৌদি আরবে সম্প্রতি সিরিজ হামলার কারণে তেল সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি বাজারে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এই দুই হিসাব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬১ সেন্ট কমেছে। শতাংশের হিসাবে এই পতন শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৬ ডলার চার সেন্টে। খবর আলজাজিরার।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৭ সেন্ট কমেছে। শতাংশের হিসাবে এই পতন শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ। বর্তমানে বাজারে ডব্লিউটিআই ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৯৩ ডলার ২৭ সেন্টে।
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক বাড়ে। সেদিন এক ধাক্কায় প্রতি ব্যারেলে প্রায় দুই ডলার দরবৃদ্ধি ঘটে। ওই দিন কার্যদিবস শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৬ ডলার ৬৫ সেন্টে স্থির হয়। এটি ছিল গত ১৫ সেপ্টেম্বরের পর তেলের সর্বোচ্চ বাজারমূল্য।
সম্প্রতি সৌদি আরবের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বন্ধের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। এই অনিশ্চয়তার কারণে হঠাৎ করে বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাজারে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে তেল সরবরাহের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। এই খবরের কারণে তেলের বাজারে নতুন করে প্রভাব পড়ে। ফলে হু হু করে দাম বাড়ার পর বাজারে তেলের দাম কিছুটা নিচের দিকে নামতে শুরু করে।
