৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ ও সাত দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি সফল করতে উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, প্রচার-প্রচারণা এবং নেতাকর্মীদের সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর জেলা জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. গোলাম রছুল।
জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ঘোষিত সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন যশোর জেলা জামায়াতের আমীর ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. গোলাম রছুল। তিনি বলেছেন, লংমার্চের কর্মসূচি সফল করতে জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিটি দায়িত্বশীল নেতাকর্মীকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের দাবি আদায়ের এই কর্মসূচিকে সফল করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, পারস্পরিক সমন্বয় এবং দায়িত্বশীলতার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সাত দফা দাবি আদায়। দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করতে হবে। শুধু কর্মসূচি ঘোষণা করলেই হবে না, কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও দাবিগুলোর গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে লংমার্চ সফল করতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষে উপজেলা আমীর ও সেক্রেটারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখা এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
অধ্যাপক গোলাম রছুল বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই ঘোষিত সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দাবি আদায়ের আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে এবং প্রতিটি পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ জামায়াতের নেতাকর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচি। এই কর্মসূচির সফলতা নিশ্চিত করতে উপজেলা আমীর ও সেক্রেটারিদের নিজ নিজ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও তৃণমূল পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিতে হবে এবং কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি তদারকি করতে হবে। কোনো পর্যায়েই যেন সমন্বয়ের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, এই লংমার্চের মাধ্যমে সাত দফা দাবির গুরুত্ব দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে এবং দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। এজন্য প্রতিটি নেতাকর্মীকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো তুলে ধরতে হবে। আমাদের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সভায় ৩১ অক্টোবরের লংমার্চকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক প্রস্তুতি, নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি, দায়িত্ব বণ্টন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় কর্মসূচির প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা এবং সাত দফা দাবির বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক এমপি এবং যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, অধ্যাপক শামসুজ্জামান, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাসসহ যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলা জামায়াতের আমীর, সেক্রেটারি ও অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
সভায় নেতারা সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ সফল করতে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং জনগণের কাছে কর্মসূচির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
