জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন,“বিশ্ববাজারে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিংবা গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে দেশে দ্রব্যমূল্য বাড়ানো হচ্ছে। তবে বাস্তবে বাংলাদেশের সিন্ডিকেটের কারণেই পণ্যের দাম বেশি বাড়ছে।”
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এনসিপির উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আসন্ন গণবিক্ষোভ কর্মসূচি উপলক্ষে এই লিফলেট বিতরণ করা হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,“গণঅভ্যুত্থানের আগে আমরা রাজপথে নেমেছিলাম, এবারও সেভাবে নেমেছি। এই সময়ে অনেক রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই সরকারকে কিছু করা যাবে না, বলা যাবে না, ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না। এই বিএনপি সরকারকে সবকিছুর জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্দেশ্যে আমরা সেই অসম্ভবকে আবার সম্ভব করার জন্য মাঠে নেমেছি।”
তিনি বলেন, “বিএনপি সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব। তাদের ধরা যাবে, ছোঁয়া যাবে এবং দ্রব্যমূল্যও নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।”
গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যখন হাল ছেড়ে দিয়েছিল যে শেখ হাসিনাকে আর বিদায় করা যাবে না, তখন আমরা রাজপথে নেমেছিলাম। আমরা সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলাম এবং বাংলাদেশের মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছিলাম, মানুষের সামনে যখনই কোনো অন্যায়-অবিচার নেমে আসে, তা বাংলাদেশের মানুষ কখনো সহ্য করে না, ভবিষ্যতেও করবে না।”
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, দলীয়করণ করা হবে না, সবকিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হবে এবং জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্র গঠন করা হবে। কিন্তু সরকার সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেনি।”
তিনি বলেন, “আমরা যখন মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, মানুষ আমাদের বলেছে, সরকার আমাদের পেটে লাথি দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”
দেশের বিভিন্ন জায়গায় দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট ও দলীয় নিয়োগের অভিযোগ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “এসব বন্ধ করতে তারা মাঠে নেমেছেন। দল-মতনির্বিশেষে ধনী-গরিব সবারই দাবি, বাংলাদেশে যেন মানুষ পেট ভরে খেতে পারে, সুস্থভাবে বাঁচতে পারে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে।”
রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণার অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কিংবা ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী প্রার্থীরা নিজেরা কারওয়ান বাজারসহ অন্যান্য কাঁচাবাজারে গিয়ে কেনাকাটা করেন না। তাদের গৃহকর্মীরাই বাজার করেন। তারা অবৈধ ও কালো টাকায় কেনাকাটা চালান বলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ কতটা কষ্টে আছে, তা তাদের স্পর্শ করে না।”
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা যারা গ্রাম থেকে উঠে এসেছি, আমাদের মা-বাবা এখনো গ্রামে থাকেন। আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি, আমাদের কাছে এক টাকার মূল্য অনেক বেশি। আমরা যখন বাজারে যাই এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে যাই, তখন দেখি, এগুলো আমাদেরই ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। তাহলে গরিব মানুষের কী অবস্থা হবে?”
