কালবেলা · দেশ
খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রির ডিলার নিয়োগে আসছে নতুন নীতিমালা
১৫/১০/২০২৬

খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
কমিটির সভাপতি মো. আবদুস সালাম পিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, জনবলসংকট, কৃষিজমি সংরক্ষণ, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, কমিটির সদস্য আবুল কালাম, মো. আবু তালেব মন্ডল, মো. আব্দুল করিম ও শামছুন্নাহার বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে জানানো হয়, ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি মো. আবদুস সালাম পিন্টু বলেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।
এ দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
খাদ্যে ভেজাল ঠেকাতে বাড়বে নজরদারি
খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ সময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সরকার অত্যন্ত সচেতন। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশু খাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বাড়ানো, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যাতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রতিটি কার্যালয়ে ক্ষুদ্র পরীক্ষাগার স্থাপন এবং খাদ্যে ভেজাল শনাক্ত ও নজরদারির জন্য মোবাইল ভ্যান সরবরাহের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
নিয়মিত নিয়োগের সুপারিশ
বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার জনবলসংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন পদে বর্তমানে ৬ হাজার ৬৫৩টি শূন্য রয়েছে।
এ অবস্থায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম বন্ধ করে নিয়মিত নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের সুপারিশ করে কমিটি। জনবলসংকট দূর হলে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗