মণ্ডপের বাইরে একদম উপরে রয়েছে ভারতমাতার ছবি। একপাশে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। অন্যপাশে স্বামী বিবেকানন্দ। নেতাজির নীচের অংশে জায়গা পেয়েছেন বিপ্লবী বীর ক্ষুদিরাম বসু। বিবেকানন্দের নীচে রয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। তবে মণ্ডপের ভিতরের অংশে রয়েছে অভিনব আকর্ষণ। দেবী দুর্গার পায়ের কাছে অধিষিষ্ঠ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের এই দুর্গাপুজো নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। প্রতিমা ও পুজো মণ্ডপ দেখতে সাধারণ মানুষজন ভিড় করবেন। এমনই প্রত্যাশা পুজো উদ্যোক্তাদের।
বহরমপুরের খাগড়া শ্মশানঘাটের দুর্গাপুজো যথেষ্ঠ পরিচিত। রাজ্যে পালাবদলে বিজেপি সরকারে এসেছে। সনাতনী ভাবনা পুজোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে বহু মণ্ডপ ভাবনায়। সেই ভাবনা থেকেই এবার এই পুজো কমিটিও ভাবনায় অভিনবত্ব এনেছে। এখানে দেবী প্রতিমা সাবেকি। এখানে প্রতিমা একচালার নয়। দেবীর দু’পাশে আলাদা আলাদাভাবে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ রয়েছেন। জাঁকজমকপূর্ণ পোশাকে ঝলমল করছেন দেবী দুর্গা।
তবে সেখানেই রয়েছে আলাদা চমক। মা দুর্গার সামনে রয়েছে নরেন্দ্র মোদির মূর্তি। দেখা যাচ্ছে, হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে। হাতে পুজোর ডালা। সেই ডালায় রয়েছে একাধিক ফুল। বাংলায় ভোটের প্রচারে এসে বারবার দেবী দুর্গার পুজোর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপিশাসিত বাংলায় এবার দুর্গাপুজোর সংখ্যাও বেড়েছে। সেখানে দুর্গার সামনে প্রধানমন্ত্রীর মূর্তি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এবার এই পুজো ৬১ বছরে পড়ল। পুজোর বিশেষ থিম ‘ভারত-ভাগ্যবিধাতা’।

এই দেশে যেন সকলে একত্রে ভালোভাবে থাকতে পারে। এই মণ্ডপের থিমের মাধ্যমে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। নরেন্দ্র মোদির কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতবর্ষ এগিয়ে চলেছে। আগামী দিনে দেশ তাঁর মাধ্যমে আরও এগিয়ে যাবে, সমৃদ্ধ হবে। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশেষ সম্মান জানানোর জন্য তাঁর মূর্তি মণ্ডপে রাখা হয়েছে। পুজো কমিটির তরফ থেকে এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রতিবারই এই পুজোয় নতুন কিছু চমক থাকে। গত বছর অসুরের মুখ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদলে করা হয়েছিল। সেই নিয়ে জোর গুঞ্জনও হয়। এবার প্রধানমন্ত্রীর মূর্তি ও পুজোর থিম যথেষ্ঠ নজর কাড়বে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
