চট্টগ্রাম, ২৩ অক্টোবর – ভারত থেকে সরকারিভাবে (জিটুজি) আমদানিকৃত চালের একটি চালানে ভয়াবহ ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রথমে প্রাথমিক পরীক্ষায় চালগুলোকে ‘খাবার উপযোগী’ ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী ল্যাব টেস্টে চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের (সিএসডি) ১৩৫ টন চালে মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপাদান ‘আফলাটক্সিন’ (Aflatoxin) এর উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ক্ষতিকর উপাদান ধরা পড়ার পর চালের ওই চালানটি অধিকতর পরীক্ষার জন্য পুনরায় পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
যেভাবে আমদানিকৃত চালে বিষাক্ত উপাদানের সন্ধান মিলল
খাদ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ নামক জাহাজে করে এই চাল আমদানি করা হয়। গত ২১ জুলাই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পরদিন খাদ্য অধিদপ্তরের ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে চালের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই সময় প্রথম পরীক্ষায় চালগুলোকে খাবার উপযোগী হিসেবে ঘোষণা করা হলে গত ২৪ ও ২৫ জুলাই জাহাজ থেকে চাল খালাস করা হয়।
খালাসের পর চালের একটি অংশ ঢাকার তেজগাঁও সিএসডি, চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডি এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর স্থানীয় খাদ্যগুদামে (এলএসডি) পাঠানো হয়। কিন্তু গুদামে পৌঁছানোর পর চালের নিম্নমান দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট খাদ্য কর্মকর্তারা। চালগুলো খাওয়া বা বিতরণের অনুপযোগী মনে হওয়ায় পরিবহন ঠিকাদারেরাও এর পরিবহন স্থগিত রাখেন এবং বিষয়টি লিখিতভাবে খাদ্য সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করেন।
এরপরই নড়েচড়ে বসে খাদ্য বিভাগ। গত ১৭ আগস্ট গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তির নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল চট্টগ্রাম সিএসডিতে গিয়ে পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করে। সেই ল্যাব টেস্টেই হালিশহর সিএসডির ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের ভয়াবহ অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়।
বাকি চাল কোথায় গেল? খাদ্য বিভাগের বক্তব্য
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খানের নির্দেশে সাড়ে ৯ হাজার টন চালের বিতরণ সাময়িক স্থগিত রেখে মান পরীক্ষার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ ও দেওয়ানহাট সিএসডির ব্যবস্থাপক হামিম রহমান জানিয়েছেন, পরীক্ষার পর হালিশহরের ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিন পাওয়া গেলেও বাকি চালগুলো নিয়ম মেনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ শাখার নিয়ন্ত্রক রেজোয়ান সাকিবও চালে আফলাটক্সিন পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আফলাটক্সিন কী এবং মানবদেহে এর ভয়াবহ প্রভাব কী?
খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যে ‘আফলাটক্সিন’ এর উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
উৎপত্তি: এটি এক ধরনের অত্যন্ত বিষাক্ত উপাদান, যা মূলত ‘অ্যাসপারজিলাস’ গোত্রের ছত্রাক থেকে উৎপন্ন হয়। অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা অনুপযুক্ত পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ শস্য, বাদাম বা চাল জমা থাকলে এই ছত্রাক ও বিষাক্ত উপাদান জন্ম নেয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, আফলাটক্সিনযুক্ত খাবার নিয়মিত বা দীর্ঘমেয়াদে খেলে মানুষের যকৃৎ বা লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি এর প্রভাবে মানবদেহে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারি গুদামে থাকা এই বিষাক্ত চালের চালান ধ্বংস এবং আমদানির আড়ালে দায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এনএন/ ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::ভারত থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে আমদানিকৃত চালে বিষাক্ত ‘আফলাটক্সিন’: চট্টগ্রামে ১৩৫ টন চাল জব্দ first appeared on DesheBideshe.