দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্তকে ‘গভীর ষড়যন্ত্রের ফল’ বলে অভিযোগ করেছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, আমলাতান্ত্রিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে ব্যবহার করে ঠুনকো অজুহাতে নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিভাবকরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু ও সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মিয়া এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, কয়েক দিন ধরেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল, আমলারা স্কুল-কলেজের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন হতে দেবেন না। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মধ্য দিয়ে সেই আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
তারা বলেন, চলমান নির্বাচনি প্রবিধানমালার আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। নতুন নতুন অজুহাত দেখিয়ে নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না। প্রবিধানমালা সংশোধনের দোহাই দিয়ে নির্বাচন বন্ধ রাখা গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর প্রত্যক্ষ আঘাতের শামিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন চলছে। অথচ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে বেসরকারি স্কুল-কলেজের প্রশাসন কোনোভাবেই আমলাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন সংগঠনটির নেতারা। তাদের মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের হাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের মতো শিক্ষা খাত এবং স্কুল-কলেজ পরিচালনায় একই ধরনের আচরণ শুরু হয়েছে। এ অবস্থা থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। একই সঙ্গে নির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের নেতারা।