জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে বাসের হেলপার মারধর করে আহত ও গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর জামা ছিঁড়ে যায় এবং হাত কেটে রক্তাক্ত হন তিনি। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এ সময় ক্ষতিপূরণ বাবদ ওই শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ মাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানান। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম পিয়াস আহমেদ শিশির। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০ মাইল এলাকায় বাসে ওঠার সময় বাসের হেলপার বা কন্ডাক্টরের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাঁকে মারধর করেন এবং জামার কলার ধরে বাসের ভেতরে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় এবং বাসের ধাতব অংশে লেগে তাঁর হাত কেটে রক্তপাত হয়। এ সময় তাঁর একটি বাটন ফোনও ঘটনাস্থলে পড়ে যায়। পরে বাসটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
পিয়াস আহমেদ শিশির বলেন, ঘটনার সময় বাসের নম্বর সংগ্রহ করতে পারেননি তাঁরা। পরে অন্য একটি বাসের লাইনম্যানের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে অভিযোগ জানানোর পরও অভিযুক্তকে শনাক্ত করা বা বাসটির পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁরা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, পরে কয়েকটি বাস থামিয়ে লাইনম্যানকে ঘটনাস্থলে আসতে বলা হয়। তাঁদের দাবি ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণের জন্য অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তাঁর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এ ঘটনায় সাভার থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুস সাত্তার জয়, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়।
ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে তাঁরা অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট বাসগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবলেও পরে সহকারী প্রক্টরের পরামর্শে পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানে সম্মত হন। সহকারী প্রক্টর তাঁদের জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকায় সেখানেই সমাধান করা যেতে পারে। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় তাঁকে ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর দলের সদস্যরা ক্ষমা চেয়ে বাস নিয়ে চলে যান বলে জানান তিনি।
পিয়াস আহমেদ শিশির বলেন, “একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি প্রত্যাশা করি না, কেউ আমার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করবেন। আমি চেয়েছিলাম, যিনি আমার সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন, তিনি ক্ষমা চান এবং আমার যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দেন।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হালিম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের সহকারী প্রক্টর আব্দুর ছাত্তার জয় আমাকে অবগত করেছিলেন। ঘটনাটি যেহেতু আমাদের ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছিল, তাই গাড়ি আটকিয়ে সেগুলো ক্যাম্পাসের ভেতরে না নিয়ে বাইরে রেখে সংশ্লিষ্ট সাভার হাইওয়ে থানার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল। পরে ডিউটি অফিসারের উপস্থিতিতে ঘটনাটির মিমাংসা করা হয়।
