ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
১৭ অক্টোবর শনিবার রাত ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন জানান, যৌথ অভিযানে শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে এ মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ১২ অক্টোবর শামীম (৩৮) ও তাঁর স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে—এমন অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শামীমের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়। ওই দিন স্থানীয় একটি বাজারে তাকে প্রথম মারধর করা হয়।
আরও পড়ুন: স্ত্রীর মৃত্যুর পর মসজিদে গিয়ে নামাজের মধ্যেই মারা গেলেন স্বামী
পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ার সময় একদল লোক শামীমকে সেখান থেকে বের করে আবারও মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন রাতে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে একটি মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। সেখান থেকে শামীমকে বের করে নিয়ে আবারও মারধর করা হয়। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ফজলুল হক আমিনীকে করা হয়েছে প্রধান আসামি।
আগের ঘটনাগুলোতে উপস্থিত থাকা ও নেতৃত্ব দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আমিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ও সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে লোক জড়ো করে বিচারবহির্ভূতভাবে দলবদ্ধ হামলার পরিস্থিতি তৈরির কথাও তিনি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এটিভি/এসআইআর
