মো.আসাদুজ্জামান নয়ন, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
দুর্গা আসছেন, চারদিকে উৎসবের আবহ। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঢাকের বাদ্য, পূজার আয়োজন আর নতুন সাজে মণ্ডপ ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের হাওয়া। নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপনে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসনও। সব মিলিয়ে ভোলার লালমোহন উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এ বছর লালমোহন উপজেলায় ২৩টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে চারটি। ফলে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে দুর্গোৎসব উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
জানা গেছে, লালমোহন পৌরসভায় দুটি, কালমা ইউনিয়নে পাঁচটি, পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে চারটি, চরভূতা ইউনিয়নে দুটি, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে ছয়টি, ধলীগৌরনগর ইউনিয়নে দুটি এবং রমাগঞ্জ ইউনিয়নে দুটি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল পূজার আয়োজন। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৮ অক্টোবর মহাষ্টমী, ১৯ অক্টোবর মহানবমী এবং ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের আয়োজন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়।
লালমোহন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি নিরব কুমার দে বলেন, দুর্গোৎসবকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। পূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ^াস দেওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রত্যাশা করছেন তিনি। এছাড়া ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্গাপূজা লালমোহনে পরিণত হবে সম্প্রীতি ও মিলনমেলায়। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে অঞ্জলি, পূজা-অর্চনা, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
এদিকে, উৎসবের আনন্দ যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা, জেনারেটর বা বিকল্প আলোর ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি থাকবে গোয়েন্দা নজরদারিও।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি তহবিল থেকে উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতায় আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী তিনি।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
