ছবির ক্যাপশন: .
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :
সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দের টাকা সাশ্রয় করে তা আবার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিরল ঘটনা ঘটালেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক। তার স্বচ্ছ তদারকি ও কঠোর মনিটরিংয়ের কারণে খাল পুনর্খনন প্রকল্পের নির্ধারিত বাজেট থেকে অর্ধেক টাকা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা দিঘিরপাড় খাল এবং মডেল থানার রুহিতপুর ইউনিয়নের খারাকান্দি খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বিএনপি সরকারের বিশেষ খাল খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইউএনও উমর ফারুক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টেন্ডার আহ্বান করেন। কাজের মান নিশ্চিত করতে তিনি নিজে সরাসরি মনিটরিং করেন এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম কঠোর হস্তে দমন করেন।
ফলাফল, কাজ শতভাগ মানসম্মতভাবে শেষ হওয়ার পরও মূল বাজেটের প্রায় অর্ধেক অর্থ উদ্বৃত্ত থেকে যায়। প্রকল্প শেষে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাশ্রয়কৃত ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন তিনি।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক বলেন, *"সরকারি অর্থ মানেই জনগণের আমানত। সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত তদারকি থাকলে নির্ধারিত বাজেট থেকেও সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। আমরা সেই চেষ্টাই করেছি। জনগণের টাকা জনগণের কাছেই এবং রাষ্ট্রীয় তহবিলেই ফিরে গেছে।"*
স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে ব্যাপকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি প্রকল্পে সাধারণত অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবি ওঠে। কিন্তু কাজ শেষ করে উল্টো কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা কেরানীগঞ্জে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, ইউএনও উমর ফারুকের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
