সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ফার্মেসীর ভেতরে শাহানাজ পারভীন নামে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরা করার ঘটনায় ওই ফার্মেসীর মালিক জিতেশ গোপকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জিতেশ গোপ (৪২) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সইলা গ্রামের যাদব গোপের ছেলে। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের আবদুল মতিন মার্কেটে অভি ফার্মেসী নামে একটি ওষুধের দোকান চালাতেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী ছুরুক মিয়ার স্ত্রী শাহানাজ পারভীন জগন্নাথপুর পৌরসভার পেছনের কলোনিতে ছেলেমেয়ে নিয়ে নিজ বাসায় বসবাস করতেন। ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তিনি বিকাশ এজেন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকা তুলে উপজেলা সদরের আব্দুল মতিন মার্কেটের অভি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ওই ফার্মেসিতে গিয়ে খোঁজ করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কোথাও শাহানাজ পারভীনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন ভোরে ফার্মেসী মালিক জিতেশ গোপ পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিতিতে পুলিশ অভি ফার্মেসির তালা ভেঙে ভেতরে বিছানার চাদর দিয়ে মোড়ানো শাহানাজের ছয় টুকরো লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর থেকে ফার্মেসির মালিক জিতেশ গোপ পলাতক ছিলেন। ওই দিন রাতে জগন্নাথপুর থানায় জিতেশ গোপকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের ভাই হেলাল মিয়া। মামলা দায়েরের পরদিন আসামি জিতেশ গোপকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে পুলিশ জিতেশ গোপকে অভিযুক্ত করেন আদালতে অভিযোপত্র দাখিল করে। আদালত দীর্ঘ শুনানী শেষে আজ জিতেশ গোপের মৃত্যুদণ্ড রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামী জিতেশ গোপ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. নজরুল ইসলাম শেফু ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পি.পি. অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল।
