চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অবস্থিত চুনতি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের বনপুকুর ও জাঙ্গালিয়া এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংরক্ষিত এই বনাঞ্চলে নিয়মিত বর্জ্য ফেলায় অভয়ারণ্যের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অভয়ারণ্যের ভেতরের বনপুকুর ও জাঙ্গালিয়া এলাকার গাছপালা ও সবুজ ঘাসের পাশে প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজসহ নানা ধরনের বর্জ্যরে স্তূপ জমেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বটতলী মোটর স্টেশনের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকার বর্জ্য রাতের আঁধারে ডাম্প ট্রাকে করে এনে এখানে ফেলা হচ্ছে। পচা বর্জ্যের উৎকট দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে চুনতি অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, অভয়ারণ্য এলাকায় আবর্জনা ফেলতে বারবার নিষেধ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা তা মানছেন না। উল্টো বনকর্মীরা বাধা দিতে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে বনকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কাজী নুরুল আলম চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই তারা ওই স্থানে আবর্জনা ফেলছেন।
অন্যদিকে, বন বিভাগের সংরক্ষিত এলাকায় বর্জ্য ফেলার কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন ইউএনও মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালে ঘোষিত প্রায় ৭ হাজার ৭৬৪ হেক্টর আয়তনের চুনতি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য এশীয় হাতিসহ বিভিন্ন মূল্যবান বন্য প্রাণীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক আবাসস্থল। সংবেদনশীল এই অভয়ারণ্য রক্ষায় অবিলম্বে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।
