মাগুরার মাটিতে কেনু কমলার সম্ভাবনা
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নের রামনগর ফার্নিচার মোড় এলাকায় আল্লাহর দান নার্সারির মালিক হারুনুর রশিদ। ২৭ বছর ধরে গাছের সঙ্গে তার সংসার। কয়েক একর জায়গা জুড়ে গড়ে তুলেছেন নার্সারি। নানা রকম ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন ও বিক্রি করেন তিনি। তার উৎপাদিত গাছের চারাগুলো জেলার চাহিদা মিটিয়েও অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন জাতের চারার মধ্যে মাল্টা, চায়না কমলা, পেয়ারা উল্লেখযোগ্য। ৫ বছর হলো অন্যান্য গাছের সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন পাকিস্তানি কেনু কমলা। পাঁচ বছর আগে ইন্ডিয়া থেকে এক ব্যক্তি কেনু কমলার একটি চারা নিয়ে এসে তার বাড়িতে লাগিয়েছিলেন। সেই গাছে কমলা ধরার পর হারুনুর রশিদকে জানান সেই ব্যক্তি। এরপর সেখান থেকে কলমের মাধ্যমে চারা সংগ্রহ করেন তিনি। সেই চারা নিজের নার্সারিতে লাগান। সেখান থেকে চারা তৈরি করে নিজের বাগানের পাশাপাশি কয়েকজনের কাছে ইতোমধ্যে সেই চারা বিক্রি করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে বাড়ির পাশেই একটি বাগানে লাগিয়েছেন প্রায় ২৪০টি কেনু কমলার গাছ। চলতি বছরই প্রথমবারের মতো অধিকাংশ গাছে ফল এসেছে।
সোমবার সরেজমিনে সেই বাগানে গিয়ে দেখা যায় বেশ কিছু গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে বড় বড় কমলা। সবুজ কমলা থেকে ধীরে ধীরে হলুদাভ রং ধারণ করছে কমলাগুলো। আর বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত হারুনুর রশিদ।
নার্সারি মালিক হারুনুর রশিদ বলেন, পাকিস্তানি কেনু কমলার গাছে সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে ফুল আসে। এরপর গুটি বাঁধে এবং ধীরে ধীরে বড় হয়ে ডিসেম্বর-জানুয়ারি নাগাদ ফল পরিপক্ব হয়। তিন থেকে চারটি কমলায় প্রায় এক কেজি ওজন হয় বলেও জানান তিনি।
বাগানের একটি গাছ দেখিয়ে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গভাবে ফলন এলে একটি বড় গাছ থেকে তিন থেকে চার মণ পর্যন্ত কমলা পাওয়া সম্ভব। একটি ডালেই কয়েক কেজি কমলা ধরেছে বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য, গাছ লাগানোর প্রায় তিন বছরের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। ফল পাকতে আট থেকে ১০ মাস সময় লাগে। একটি ফলন সংগ্রহের পর আবার গাছে ফুল ও নতুন ফল আসতে পারে। একাধিক চারা তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতিটি চারা ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। চারা নেওয়া কৃষকদের সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
আলমখালী বাজারের ব্যবসায়ী মোমিন হোসেন সোশ্যাল মিডিয়ায় কমলালেবুর ভিডিও দেখে বাগানটি দেখতে যান। থোকায় থোকায় বড় বড় কমলালেবু দেখে তিনি বলেন , বাগানে এসে গাছে এত সুন্দর ফল দেখে ভালো লেগেছে। আমাদের এলাকায় এই জাতের কমলা ভালোভাবে হলে আমিও জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করার কথা ভাবছি। হারুন ভাইয়ের কাছে এসেছি পরামর্শ নেওয়ার জন্য। দেখি যদি চাষ করা যায়।
আরেক কৃষক হিরন মিয়া বলেন, আগে মনে করতাম মাগুরার আবহাওয়ায় কমলা চাষ করা কঠিন। যদিও আগে বেশ কিছু চায়না কমলার বাগান দেখেছি মাগুরায়। কিন্তু এই বাগানে এসে গাছের পাকিস্তানি কমলার ফলন দেখে সত্যিই অনেক অবাক হয়েছি। এত বড় বড় কমলালেবু এর আগে মাগুরার কোনো গাছে আমি দেখি নাই। দেখি নার্সারির মালিকের সঙ্গে পরামর্শ করে এর কিছু চারা নিয়ে বাড়ির উঠানে লাগানো যায় কিনা।
নার্সারি মালিক হারুনুর রশিদ জানান, তাঁর নার্সারিতে তিন জাতের কমলা রয়েছে। তবে তাঁর পর্যবেক্ষণে পাকিস্তানি কেনু জাতটি তুলনামূলক ভালো ফলন ও মান অনেক ভালো। মাগুরার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন কৃষক ইতোমধ্যে এ জাতের চারা নিয়ে বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোঃ আজম উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে মাগুরাতে বেশ কয়েকটি চায়না কমলার বাগান হয়েছে। প্রায় এক হেক্টর জায়গাতে কমলা লেবুর চাষ হচ্ছে। সেই সকল চাষীদের কে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। তবে নতুন কোনো ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরুর আগে স্থানীয় মাটি, আবহাওয়া, জাত নির্বাচন, রোগবালাই, উৎপাদন খরচ ও বাজারজাতকরণের বিষয়গুলো বিবেচনা করা জরুরি।
এর আগে যারা চায়না কমলার চাষ করেছে তাদের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। নতুন এই পাকিস্তানি কমলার জাতের ফলন বেশ ভালো হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি আমরা খোঁজখবর রাখছি। স্থানীয় চাষীরা যদি এই কামলা চাষে আগ্রহী হয় আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সকল পরামর্শ ও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।
আরও পড়ুন
মৌলভীবাজারে অবকাঠামো আছে, যাতায়াত নেই
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে স্থানীয়রা সেতু ব্যবহার করতে পারছেন না। মৌলভীবাজারের রাজনগরের ইসলামপুর থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ
-->মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন। ২০২০ সালের জুলাইয়ে এই ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের লাঘাটা নদীর ওপর একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কথা ছিল পরের বছরের নভেম্বরে কাজ শেষ হবে। অথচ এখন পর্যন্ত তা মানুষের যাতায়াতের উপযোগী হয়নি।
সেতুর অবকাঠামো তৈরি হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তা স্থানীয়রা ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে ১২ গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষার কারণে মাটির অভাবে সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। এ ছাড়া আইনি জটিলতার কারণে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাজনগর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কামারচাক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধলাই ফেরিঘাট সড়কে যাওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে ২০২০ সালের ৬ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতুটি বানাতে ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা। কাজ পায় ভোলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেবি)। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। সেই মেয়াদও শেষ হয়েছে পাঁচ বছর আগে। অথচ সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তা স্থানীয়রা ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে তাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এমন অবস্থায় দক্ষিণ ইসলামপুর, খাস প্রেমনগর, মিটিপুর, ভোলানগর, শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, আলালপুর, হাটিকরাইয়া, গোবিন্দপুর, কালইকুনাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি ও মুমূর্ষু রোগীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
জানা গেছে, এলাকায় কৃষিপণ্য ও হাওরের মাছ বাজারে নেওয়া কিংবা ব্যবসার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয়রা। প্রায় দ্বিগুণ খরচে কৃষিপণ্য ও মাছ বাজারে নিতে গিয়ে কৃষক, খামারি ও মৎস্যজীবীরা প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় লাঘাটা নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
ইসলামপুর এলাকার শিক্ষার্থী সুমি আক্তার জানান, সেতুটি অসম্পূর্ণ থাকায় বর্ষাকালে নদী পারাপারে তাদের ঝুঁকি নিতে হয়। দ্রুত সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
কৃষক সুলেমান মিয়া বলেন, ‘সেতু কার্যকর না থাকায় জমির ফসল নিয়ে নদী পার হতে অনেক সময় ও টাকা লাগে। বর্ষায় নৌকা বা বাঁশের সাঁকোই আমাদের ভরসা। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।’
দক্ষিণ ইসলামপুরের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে স্থানীয়দের সময় ও অর্থ দুটিরই ব্যয় হচ্ছে। তারা দ্রুত দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
প্রবীণ ব্যবসায়ী মুজিব মিয়া বলেন, ‘সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম দ্রুতই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষ হবে। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও সেতুটি পুরোপুরি চালু হয়নি। এত টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করেও মানুষ যদি এর সুফল না পান, তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক।’
এদিকে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেভি)-এর স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এলজিইডির রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল গনি বলেন, ‘মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। তবে বর্ষার কারণে মাটি না পাওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণেও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। বর্তমান অবস্থাতেই সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।’
আরও পড়ুন
দাউদকান্দিতে ৮ হাজার মানুষের ভরসা কাঠের সেতু
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
খালের ওপর নির্মিত কাঠের সেতুটি দিয়ে পাঁচ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। দাউদকান্দির বিরবাগগোয়ালী গ্রামের খিরাই খাল এলাকা। ছবি: খবরের কাগজ
-->কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিটেশ্বর ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের আট হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি কাঠের সেতু। বিরবাগগোয়ালী গ্রামের খিরাই খালের ওপর নির্মিত এই সেতু দিয়ে বছরের পর বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন চন্দ্রশেখরদী, পাঁচভিটা, কালাসাধাদীয়া, নোয়াদ্দা, বিরবাগগোয়ালী গ্রামের মানুষরা।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সেতুটি পাকা করার দাবি জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই চলাচল করছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের উদ্যোগে খিরাই খালের ওপর গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ ও ৫ ফুট প্রশস্ত সেতুটি।
সরু এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, দিনমজুর, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। স্থানীয়দের দাবি, ৫ গ্রামের ৮ হাজারের বেশি মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। প্রায় ২০ বছর ধরে ভাঙা-মেরামতের মধ্য দিয়ে কোনোভাবে টিকে আছে সেতুটি।
তবে এখনো কাঠের সেতুর স্থলে নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী পাকা ব্রিজ।
স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে সেতুটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছি। বিগত সরকারের আমলেও স্থানীয় নেতারা জাতীয় নির্বাচনের সময় সেতুটি পাকা করার আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের পর আর খোঁজখবর নেয়নি। এবার জাতীয় নির্বাচনেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা সেতুটি পাকা করনের আশ্বাস দেন। আশ্বাসে আশ্বাসে ২০ বছর চলে গেল পাকা সেতু আর পেলাম না।
নোয়াদ্দা গ্রামের রাবেয়া বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হতে হয়। ১৫-২০ বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পাচ্ছি। কিন্তু স্থায়ী সেতু পাচ্ছি না। কবে এই সেতু হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’
চন্দ্রশেখরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রিয়ান বলেন, ‘বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়া আসা করতে এই সেতুটি দিয়ে আমাদের অনেক ভয় লাগে। কখন জানি ভাঙা সেতুটি ভেঙে পানিতে পড়ে গিয়ে স্কুলের বই খাতা ভিজে যায়।’
কালাসাধারদিয়া গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ‘প্রতিবছর সামান্য বাজেটে গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে সেতুটি তৈরি করা হয়। কিন্তু সেটি বেশি দিন টেকে না। ফলে সারা বছরই মানুষের দুর্ভোগ লেগে থাকে। একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে এই পাঁচ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।’
স্থানীয়রা জানান, সেতুটির বিষয়ে ইউপি সচিব উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে আবেদন করেছেন। দীর্ঘ বছর ধরে সেতুটি হবে-হবে বলা হলেও এখনো হয়নি। এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘উপজেলার জন্য নতুন ৭০টি ব্রিজের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে এটি রয়েছে কি না আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
আরও পড়ুন
কঠোর অবস্থানে প্রশাসন নজরদারিতেও থামছে না ইলিশ নিধন
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->নদীতে টহল দিচ্ছে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ। অভিযানে জব্দ করা হচ্ছে অবৈধ জাল। আটক হচ্ছে জেলে, দেওয়া হচ্ছে জেল-জরিমানা। তবু বন্ধ হচ্ছে না মা-ইলিশ নিধন। কোথাও অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন সংসার চালানোর মতো সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন জেলেদের অনেকে। সব মিলিয়ে বরিশাল বিভাগে মা-ইলিশ রক্ষার অভিযান কার্যকর করা নিয়ে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুত নিষিদ্ধ করেছে সরকার। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায়ও চলছে সমন্বিত অভিযান। তবে বিস্তীর্ণ জলসীমায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, অবৈধ মাছের বাণিজ্য এবং অভিযান পরিচালনায় অর্থসংকটের কারণে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গত শুক্রবার বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীর সাওরা ও অন্তরবাম এলাকায় অভিযানের সময় কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। একদল জেলে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে অভিযানে বাধা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোস্টগার্ড ১০ থেকে ১১টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ সালাহউদ্দিন ও শাহ আলম নামে দুই জেলেকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও পাঁচ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
ইতোমধ্যে মা-ইলিশ সংরক্ষণে বিভাগের ছয় জেলায় তিন দিনে ৩১৯টি অভিযান চালানো হয়েছে। ৮ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এসব অভিযানে ৩৭১ কেজি ইলিশ ও ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯০০ মিটার জাল জব্দ করা হয়। এ সময় ২৪টি মামলা, ৬০ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা এবং ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা ও দুর্গম চরাঞ্চলে একসঙ্গে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা কঠিন। কিছু জেলে রাতের অন্ধকারে কিংবা প্রত্যন্ত ঘাট ব্যবহার করে নদীতে নামেন। অবৈধ মাছের কেনাবেচায় যুক্ত ব্যক্তিরা সক্রিয় থাকলে শুধু নদীতে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
কারেন্ট জালসহ নিষিদ্ধ জালের সহজলভ্যতাও বড় সমস্যা। এসব জাল দিয়ে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা সম্ভব। ফলে নদীতে জাল জব্দের পাশাপাশি জালের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করা এবং অবৈধ মাছের ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময় কর্মহীন জেলেদের পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। বিভাগে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন জেলের জন্য ৮ হাজার ৯৬২ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে মৎস্য বিভাগের হিসাবেই নিবন্ধিত ৬৩ হাজার ৭৫৯ জন জেলে এই সহায়তার বাইরে থাকবেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিতের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় জেলে পরিবারপ্রতি চালের বরাদ্দ ২৫ কেজি থেকে বাড়িয়ে ১০০ কেজি করতে হবে। তার মতে, ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা জরুরি হলেও পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে জেলেদের দুর্ভোগ কমবে না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সনাক) বরিশাল জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, মৎস্যজীবীদের অভাবের মধ্যে রেখে ঘরে আটকে রাখা যাবে না। প্রকৃত জেলেদের সঠিক তালিকা তৈরি, সময়মতো খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সহায়তার পরিমাণ বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা জরুরি। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময়ে বিকল্প কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এবার ভিজিএফের চালের বরাদ্দ আগেভাগে আসায় সুবিধা হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। অভিযান কমে গেলে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন
নড়াইলে পাঁচ বছরেও অসমাপ্ত সেতু
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ এএম
নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর অসম্পূর্ণ পিলারগুলো দাঁড়িয়ে আছে। সম্প্রতি নড়াইলের লোহাগড়ার ফেদি বাজার ঘাট এলাকায়। ছবি: খবরের কাগজ
-->নড়াইলের লোহাগড়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর ফেদি বাজার ঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের কাজ ২০২৩ সালের অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল মাত্র ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করতে পেরেছে। বারবার মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে প্রায় ৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় নদীর দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলা ও লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সহজ পথ এটি। সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় নৌকায় করেই এই পথে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে লোহাগড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে এই পথে জেলা সদরে যাতায়াত করেন। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন মুমূর্ষু রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এই সমস্যা সমাধানে সেতু নির্মাণের জন্য ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ]
ব্যয়ের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইসিএল’-কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নবগঙ্গা নদীর দুই পাড়ে সেতুর পিলার নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ অসমাপ্ত থাকায় সেতু দিয়ে চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যেতে নৌকায় পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ফেদি বাজারের মুদি দোকানি দুলাল মোল্যা বলেন, ‘বর্তমানে মাত্র দুটি ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে আমাদের নদী পার হতে হচ্ছে। বিকল্প পথ ব্যবহার করতে গিয়ে আমাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করার দাবি জানাই।’
ভুমুরদিয়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী আনিস সরদার বলেন, ‘দীর্ঘদিনের সীমাহীন দুর্ভোগ থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে তা সর্বসাধারণের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।’
নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, ‘বারবার সময় দেওয়ার পরও চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আইসিএলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেতুটির অসমাপ্ত ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করার জন্য ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করা হবে।’
