নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে আবারও দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে গত চার জুলাই তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ৩০ জুলাই সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আবারও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মোজাম্মেল হক সোহেল বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বারহাট্টা উপজেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ সময় অর্চনা রানী দাস নামের এক বিধবা নারী তার পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করে মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন। অর্চনা রানী সোহেলের প্রতিবেশী।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই সোহেলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় যুবদল।
এর আগে গত চার জুলাই বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে দৈনিক যায়যায়দিনে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে নানা তদবির এবং বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। পুনর্বহালের আড়াই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আবারও বহিষ্কার করা হলো।
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোজাম্মেল হক সোহেল। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি। সোহেল বলেন, ‘আগেরবারও প্রতিপক্ষ আমাকে ফাসিয়েছিল। আমি বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। জমি লিখে দেওয়ার জন্য মারধরের কী দরকার? তাদের সবকিছুই তো আমার। আমার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজের অজান্তে হয়তো কিছু বলেছেন, যা প্রতিপক্ষ বাড়িয়ে প্রচার করেছে।’
প্রতিবেশী অর্চনা রানীর পরিবারের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে সোহেল বলেন, অর্চনা রানীর ভাবীকে সাত বছর আগে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়েছে। তার দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন অর্চনা রানীকে প্ররোচিত করে সংসদ সদস্যের কাছে নিয়ে গিয়ে মারধরের মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছেন। পুরো বিষয়টিকে তিনি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেন।
