কালবেলা · স্বাস্থ্য
আটকে পড়া ৪০ ইরানি নাবিকদের জরুরি চিকিৎসা দিল শ্রীলঙ্কা
২৫/১০/২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী জাহাজে আটকে পড়া প্রায় ৪০ জন ইরানি নাবিককে জরুরি চিকিৎসা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির জলসীমার বাইরে নোঙর করে থাকা জাহাজগুলো থেকে নাবিকদের তীরে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থুশারা রদ্রিগো বলেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের গলে বন্দরের মাধ্যমে নাবিকদের জাহাজ থেকে তীরে আনার ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, ‘মানবিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে আমরা এককভাবে নাবিকদের স্থানান্তরের সমন্বয় করেছি। এর সব ব্যয় বহন করেছে ইরানি দূতাবাস।’
কলম্বোয় ইরানি দূতাবাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য নাবিকদের গল থেকে রাজধানী কলম্বোয় নেওয়া হয়। পরে শনিবার রাতেই তারা শ্রীলঙ্কা ত্যাগ করেন। অর্থাৎ, দ্বীপদেশটিতে তারা মাত্র কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
এর প্রায় এক মাস আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি জাহাজগুলো শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছে আটকে পড়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সে সময় শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞাগুলো ওয়াশিংটনের বৃহত্তর নীতির অংশ, শ্রীলঙ্কাকে লক্ষ্য করে নেওয়া কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নয় বলেও উল্লেখ করেছিল কলম্বো।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের খবর অস্বীকার করে বলেছিলেন, সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব কঠোরভাবে সুরক্ষিত রেখে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে মানবিক কারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শ্রীলঙ্কা প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে চলতি বছর ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানের ফ্রিগেট আইআরআইএস ডেনাতে হামলা চালিয়ে সেটি ডুবিয়ে দেয় একটি মার্কিন সাবমেরিন। টর্পেডো হামলায় অন্তত ৮৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় পুরো অঞ্চলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
সূত্র : দ্য হিন্দু
মূল প্রতিবেদনে যান ↗