ইকুয়েডরে জন্ম নেওয়া একটি নবজাতককে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশুটির ওপরের ঠোঁটের ঠিক ওপরে গোঁফের মতো দেখতে একটি গাঢ় পশমের আস্তরণ রয়েছে।
শিশুটির এই ব্যতিক্রমী ও অস্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও হাজার হাজার মানুষ অনলাইনে শেয়ার করেছেন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।
তবে এই ভিডিওটির সত্যতা এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গত ২৩ অক্টোবর ‘মেট্রো ইকুয়েডর’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ভিডিওটির উৎস এবং শিশুটির মুখের এই আপাত পশমের কোনো চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে যে, শিশুটির ঠোঁটের ওপরের ওই গাঢ় দাগটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ফিল্টারের মাধ্যমে ডিজিটালভাবে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে কিনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতকদের শরীরে অনেক সময় ‘লানুগো’ নামক হালকা ও নরম লোম থাকতে পারে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে জন্মের পরপরই মুখে স্পষ্ট গোঁফের মতো এমন গাঢ় পশম গজানোর ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়মের মধ্যে পড়ে না।
ফলে এটি কোনো প্রকৃত চিকিৎসাগত ঘটনা হওয়ার চেয়ে ডিজিটাল কারসাজি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সব মিলিয়ে, ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার নাকি নিছকই ডিজিটাল সম্পাদনার ফল, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিওটি পুরোপুরি ভুয়া এবং ডিজিটালভাবে কারসাজি করা।
ভিডিওটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর মাথা এবং মুখভঙ্গির সঙ্গে গোঁফটি স্বাভাবিকভাবে মানাচ্ছে না। শিশুটি নড়াচড়া করার সময় গোঁফের আশপাশে সামান্য ঝিকিমিকি বা ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়।
এ ছাড়া হাসপাতালের ঘরের চারপাশের আলো এবং শিশুর ত্বকের ওপর পড়া ছায়ার সঙ্গে গোঁফের আলো বা ছায়ার কোনো মিল নেই। এর গঠন ও আলো বেশ অসঙ্গতিপূর্ণ। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ঘটনার পক্ষে কোনো হাসপাতাল, চিকিৎসক, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট রেকর্ড বা শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা সত্যতা পাওয়া যায়নি।