Published on
:
2 min read
এই সময়, পুরুলিয়া: আর হাওড়ায় ঢুকবে না রূপসী বাংলা সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। আজ রবিবার থেকে এই ট্রেনটির যাত্রা শেষ হবে সাঁতরাগাছিতেই। প্রতিদিন সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে হাওড়া থেকে ছেড়ে ট্রেনটি পুরুলিয়া আসত। বিকেল ৩টে ২৫ মিনিটে পুরুলিয়া থেকে ছেড়ে রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ হাওড়া পৌঁছত। লেটও করত মাঝেমধ্যে। তবে রেলের নয়া নির্দেশিকায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, রেলের এই সিদ্ধান্ত কি সাধারণ যাত্রীদের কথা ভেবে? নাকি যাত্রীদের হয়রানির মধ্যে ফেলার জন্য?
হাওড়া স্টেশনে অতিরিক্ত ট্রেনের চাপ এড়াতেই রেল কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ২০০০ সালের এপ্রিল মাসে হাওড়া থেকে পুরুলিয়া পর্যন্ত এই ট্রেনটি চালু করেছিলেন। পরে ট্রেনটির সঙ্গে হাওড়া-ভুবনেশ্বর ধৌলি এক্সপ্রেসকে জুড়ে দেওয়া হয়।
একই ইঞ্জিনে দু’টি ট্রেন একইসঙ্গে হাওড়া থেকে ছেড়ে খড়্গপুরে এসে আলাদা দু’টি রুটে গন্তব্যে বেরিয়ে যেত। ফেরার সময় ট্রেন দু’টি পৃথক ভাবেই হাওড়া পৌঁছত। ২০১১-তে এটি সাঁতরাগাছিতে স্থানান্তরিত হলেও ২০১৪-য় লোকসভা ভোটের আগে যাত্রীদের সুবিধার্থে ফিরতি ট্রেনটিকে হাওড়া পর্যন্ত রাখার ব্যবস্থা হয়েছিল। তবে নতুন নিয়মে বিকেলের একমাত্র ট্রেনটি সাঁতরাগাছিতে থমকে যাওয়ায় বিপাকে পড়বেন পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার নিত্যযাত্রীরা।
পুরুলিয়া নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক ঋতুরাজ দে-র বক্তব্য, ‘রাতে হাওড়ায় পৌঁছনোর সুবিধাটা তুলে নেওয়া হল! এ বার রাতে সাঁতরাগাছিতে নেমে হাওড়ায় পৌঁছতে ফের অন্য ট্রেন ধরতে হবে। রাতের দিকে লোকালের সংখ্যাও কমে যায়। বিস্তর হ্যাপা পোহাতে হবে। না হলে বেশি টাকা দিয়ে ক্যাব বুক করতে হবে। তাতে খরচ আরও বাড়বে। ট্রেনটি ফের হাওড়ায় ফেরানোর দাবি জানালাম।’
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন পুরুলিয়া চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সম্পাদক দেবকুমার দাঁ এবং ফেডারেশন অফ স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম ইন্ডাস্ট্রির পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক মনোজ ফোগলা। দেবকুমারের কথায়, ‘বিকেলের দিকে পুরুলিয়া থেকে এই একটিই ট্রেন যা সরাসরি হাওড়ায় পৌঁছয়। সাঁতরাগাছির পরিবর্তে হাওড়ায় যাতে রূপসী বাংলা পৌঁছয় তা দেখার জন্য পুরুলিয়ার সাংসদের কাছে অনুরোধ জানাব।’
রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিরাও এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন। প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক নেপাল মাহাতো বলেন, ‘এর আগে যখন ট্রেনটিকে সাঁতরাগাছিতে স্থানান্তরিত করে দেওয়া হয়েছিল তখন আমি নিজে রেলমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্রেনটিকে ফিরতি পথে হাওড়ায় ফিরিয়েছিলাম। নতুন সিদ্ধান্তে ফের যাত্রীরা খুব সমস্যায় পড়বেন।’
জেলা সিপিএম সম্পাদক প্রদীপ রায় একে পুরুলিয়ার প্রতি ‘উপেক্ষা ও বঞ্চনা’ বলে চিহ্নিত করে বলেন, ‘প্রয়াত সাংসদ বাসুদেব আচারিয়ার হস্তক্ষেপে ট্রেনটি ফিরতি পথে হাওড়ায় ফিরেছিল।’ তৃণমূল নেতা (মমতাপন্থী) সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় উভয়েই যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে দক্ষিণ-পূর্ব রেল ও সাংসদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। সুদীপ নিশ্চিত করেছেন, সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার দাবিতে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
