ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে নিজের প্রেমের গল্প স্মরণ করেছেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের প্রথম পোস্টে একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজের একটি ছোট্ট গ্রিক রেস্তোরাঁয় তাদের প্রেমের সূচনা হয়েছিল। ১০ই নভেম্বর প্রকাশ হতে যাচ্ছে সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’। বইটি প্রকাশের আগে নিজের জীবনের ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছেন তিনি। পুরোনো ছবির পাশাপাশি রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সম্পর্কের শুরুর দিকের নানা কথাও উঠে এসেছে ভিডিওতে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
সোনিয়া বলেন, ক্যামব্রিজের একটি ছোট্ট গ্রিক রেস্তোরাঁয় আমার ভালোবাসার যাত্রা শুরু হয়েছিল। রাজীব আর আমি ভালোবাসা, হাসি আর স্মৃতিতে ভরা একটি জগৎ গড়ে তুলেছিলাম। আগামী ১০ই নভেম্বর সেই জগৎ আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।
১৯৬৫ সালে ক্যামব্রিজের ওই গ্রিক রেস্তোরাঁয় রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণও জানিয়েছেন সোনিয়া। হাসিমুখে তিনি বলেন, অবশ্যই তিনি দেখতে খুব সুদর্শন ছিলেন। সেই সময় ইংল্যান্ডে ভালো খাবার পাওয়া কতটা কঠিন ছিল, তা-ও স্মরণ করেছেন সোনিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন রেস্তোরাঁর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। খোঁজ করতে করতে শেষ পর্যন্ত তিনি এমন একটি গ্রিক রেস্তোরাঁর সন্ধান পান, যেখানে ভারতীয় ও ইতালীয় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ছিল। সেই রেস্তোরাঁই হয়ে ওঠে তাদের সম্পর্ক শুরুর জায়গা। সোনিয়া বলেন, ‘সেখানেই রাজীবের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, ঠিক ওই রেস্তোরাঁয়। প্রথমবার তার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে হয়েছিল, এই মানুষটির সঙ্গে আমি সত্যিই থাকতে চাই। পরে জানতে পারি, তারও অনুভূতি একই রকম ছিল।’
প্রথম পরিচয়ের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এক সাধারণ বন্ধু দু’জনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর আমরা বন্ধু হয়ে উঠি। বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতাম।’ রাজীব গান্ধীর ব্যক্তিত্বের কথা বলতে গিয়ে তার কোমল স্বভাবের বিশেষ প্রশংসা করেন সোনিয়া। তার মতে, প্রথম সাক্ষাতেই রাজীবের এই গুণ তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। সোনিয়া বলেন, তাঁকে খুব কোমল স্বভাবের মানুষ বলে মনে হতো। অবশ্যই তিনি দেখতে খুব সুদর্শন ছিলেন। কিন্তু তার সেই কোমলতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠত। বিষয়টি আমাকে সত্যিই স্পর্শ করেছিল, গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তার সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার সেই মুহূর্ত আমি কখনো ভুলব না।
এক্সে প্রথম পোস্ট দেয়ার মধ্য দিয়ে এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেন সোনিয়া গান্ধী। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি ইনস্টাগ্রামেও যোগ দেন। সেখানে নিজের আসন্ন স্মৃতিকথার প্রথম ঝলক পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে নিজের প্রথম পোস্টে সোনিয়া লিখেছেন, ‘সবাইকে স্বাগত। এই মুহূর্তটি আপনাদের সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ- আমার বই ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’-এর প্রথম ঝলক। এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, হারানোর বেদনা এবং নিজের জন্য একটি আপন ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার গল্প। আপনাদের সঙ্গে এটি ভাগ করে নেয়ার অপেক্ষায় আছি।’
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সোনিয়া গান্ধী তার বইয়ের প্রথম কয়েকটি কপি হাতে নিচ্ছেন। এ সময় মেয়ে ও কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রের সঙ্গে মিষ্টি ভাগ করে নেন তিনি। ভিডিওতে মা-মেয়েকে আলিঙ্গন করতেও দেখা যায়। আগামী ১০ই নভেম্বর বইটি প্রকাশ হওয়ার কথা। এরই মধ্যে বইটির আগাম অর্ডার নেয়া শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বইটি প্রকাশ করছে আলফ্রেড এ. নফ। ভারতে প্রকাশনার দায়িত্বে রয়েছে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া। ৫৪৪ পৃষ্ঠার এই স্মৃতিকথায় যুদ্ধ-পরবর্তী ইতালিতে সোনিয়া গান্ধীর শৈশব থেকে শুরু করে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরবর্তী সম্পর্কের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তার জীবনের গভীর ব্যক্তিগত শোক ও ট্র্যাজেডির কথাও রয়েছে বইটিতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ড। ব্যক্তিগত জীবনের এসব ঘটনা কীভাবে তার জীবনকে বদলে দিয়েছে, পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ভারতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা কীভাবে গড়ে উঠেছে, স্মৃতিকথাটিতে তারও বিবরণ রয়েছে।
