সাইবার বুলিং ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়ে আত্মঘাতী হওয়া ২৭ বছর বয়সি ভারতীয় ফিন্যান্স ইনফ্লুয়েন্সার কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ভি হরিশের একটি ভিডিও সামনে এসেছে। তার বন্ধুদের দাবি, এটিই ছিল তার জীবনের শেষ ভিডিও। ওই ভিডিওতে হরিশ অভিযোগ করেছেন, তাকে চরম হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছিল এবং তার কাছে চাঁদা বা টাকা দাবি করা হচ্ছিল, যা তার ও তার পরিবারের জন্য তীব্র মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ইনস্টাগ্রামে ১৩ লাখেরও বেশি ফলোয়ার থাকা জনপ্রিয় ফিন্যান্স ইনফ্লুয়েন্সার হরিশ চেন্নাইয়ের নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। তার বাবার অভিযোগ, ভেনচার স্টুডিওর এক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েই প্রাণ হারিয়েছেন তার ছেলে।
ভি হরিশ ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে ‘ফাইন্যান্স উইথ হরিশ’ নামের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্র্যান্ড পরিচালনা করতেন। তার বাবার অভিযোগ, ‘জেমুরিয়া ইনক’ নামের ভেনচার স্টুডিওর সিইও জেসন স্যামুয়েল তাকে ‘টার্গেট’ করেছিলেন। স্যামুয়েলের অভিযোগের ভিত্তিতে মেটা কর্তৃপক্ষ হরিশের মূল ইনস্টাগ্রাম আইডিটি নিষ্ক্রিয় (ডিসঅ্যাবিল) করে দিয়েছিল। এরপর তিনি একটি নতুন আইডি থেকে ভিডিও প্রকাশ করা শুরু করেছিলেন। তবে হরিশকে হয়রানির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্যামুয়েল।
হরিশের বন্ধুরা জানিয়েছেন, ভিডিওটি এই তরুণ ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যুর আগের শেষ ভিডিও। ওই ভিডিওতে হরিশকে বলতে শোনা যায়, তার পাঁচ বছরের কঠোর পরিশ্রম চুরি করে নেওয়া হয়েছে। মূলত বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিকেই তিনি এর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছিলেন।
ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওতে হরিশকে বলতে শোনা যায়, ‘এটি আমার পাঁচ বছরের পরিশ্রম। আমার মধ্যে কোনো ভুলত্রুটি পেলে আপনারা আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, আমি জবাব দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আমার পাঁচ বছরের কঠোর পরিশ্রম চুরি হয়ে গেছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে ও তার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছিল এবং তার কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছিল। তবে ভিডিওটিতে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ করেননি।
হরিশ ভিডিওতে বলেন, ‘তিনি (অভিযুক্ত ব্যক্তি) বলেছিলেন যে আমার পরিবারকে টার্গেট করা হবে। তিনি দাবি করেছিলেন যে পুদুচেরির বিধায়ক এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে, কারণ তিনি জানতেন আমি পুদুচেরির মানুষ। তিনি আমার কাছে টাকাও দাবি করেন এবং আমাকে বলেন, ‘টাকা না দিয়ে তুমি কোথায় যাবে?’
হরিশ আরও বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না কী করব। তিনি এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন যেখানে আমার কারণে অন্য মানুষেরা বদনামের শিকার হচ্ছিল বলে আমার মনে হচ্ছিল।’
‘বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার সময়ও আমার অপরাধবোধ হতো। তিনি আমাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করে বলতেন যে, আয়কর বিভাগ জরিমানা করলে আমাকে ৬০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে এবং এমনকি জেলের ভাতও গুনতে হতে পারে।’
তার ওপর নিপীড়নকারী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য টাকা দাবি করেছিলেন বলেও ভিডিওতে অভিযোগ করেন এই তরুণ।
হরিশ বলেন, ‘তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘এসবের মুখোমুখি না হয়ে আমাকে টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলো। তা না হলে আমরা এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব প্রকাশ করব।’
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জেসন স্যামুয়েল বলেন, হরিশের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তবে তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন যে, তিনি কেবল হরিশের ‘ভুল তথ্য উপস্থাপন’ বা অসত্য বিষয়গুলোই সবার সামনে তুলে ধরেছিলেন। স্যামুয়েলের দাবি, হরিশ সেবির (এসইবিআই) নিবন্ধিত কোনো বিনিয়োগ পরামর্শক (আরআইএ) ছিলেন না এবং সম্প্রতি মিউচুয়াল ফান্ডের অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এএমএফআই) থেকে তিনি কেবল তার এআরএন নম্বরটি পেয়েছিলেন।
তবে হরিশের বাবার স্পষ্ট অভিযোগ, স্যামুয়েলের লাগাতার হয়রানি ও বুলিংয়ের কারণেই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন তার ছেলে।