লখনউয়ের ক্যাফেমালিক সত্যিই কি ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, আত্মহত্যা করেছিলেন না কি এটা পরিকল্পিত কোনও খুনের ঘটনা? শিবা শর্মার মৃত্যুতে রহস্য বেড়েই চলেছে। তাঁর মৃত্যু নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই একটি নতুন ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ্যে আসায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
লখনউয়ের যে আবাসনে শিবার লিভ ইন সঙ্গী শ্রদ্ধা দুবে থাকতেন, সেই আবাসনের সিঁড়ি দিয়ে শ্রদ্ধা এবং শিবাকে একসঙ্গে নামতে দেখা যাচ্ছে ওই ভিডিয়োতে (যদিও সেটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ভিডিয়োটি ২০ মে-র। ওই দিন মধ্যরাতে শিবার হাত ধরে শ্রদ্ধাকে নামতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের আগে ছিলেন শ্রদ্ধার বোন রশ্মি। ওঁদের তিন জনকেই নামতে দেখা গিয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পর ভোর ৫টা ২৬ মিনিটে শ্রদ্ধাকে একা ফিরে আসতে দেখা যায়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, শিবার মৃত্যুতদন্তে এই ফুটেজ কাজে লাগতে পারে।
শিবাকে খুনের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর মা রঞ্জনা। সেই অভিযোগেই গত ২০ অক্টোবর নাগপুর থেকে গ্রেফতার হয়েছেন শ্রদ্ধা, রশ্মি এবং গাড়িচালক আদিল। তাঁরা এখন লখনউয়ের জেলে বন্দি। তদন্তকারীরা এই তিন জনকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন কী ভাবে শিবার মৃত্যু হল। তার মধ্যেই নতুন এই ভিডিয়ো ফুটেজ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ্যে আসায় মুখ খুলেছেন শ্রদ্ধার ফ্ল্যাটমালিক অজয় রাই। কেন তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তাঁর দাবি, শ্রদ্ধা অত্যন্ত বদমেজাজি স্বভাবের। তাঁকে দেখে কেউ আন্দাজ করতে পারবেন না যে, এই তরুণীর মুখ থেকে এত কদর্য ভাষা বেরোতে পারে। তাঁর এই স্বভাবের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি ফ্ল্যাটমালিকের। কিন্তু এই ক্যামেরা লাগানো নিয়েও আপত্তি ছিল শ্রদ্ধার। তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েক বার এ বিষয়ে কথা কাটাকাটিও হয়। ফ্ল্যাটমালিকের লাগানো সেই সিসিটিভি ক্যামেরারই একটি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর আবাসনের চারতলার ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় শিবার। তার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন শ্রদ্ধা, রশ্মি এবং আদিল। তাঁরা তিন জনে নেপালে পালিয়ে যান। তার পর সেখান থেকে আবার ফিরে আসেন ভারতে। তার পর নাগপুরে একটি ফ্ল্যাটে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। তিন জনেরই ১০ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
