শ্রীরামপুরের চাতরার ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাEi Samay
Published on
:
1 min read
প্রদীপ চক্রবর্তী, শ্রীরামপুর
পুজো যার যার, উৎসব সবার। তার অন্যতম বড় উদাহরণ শ্রীরামপুরের চাতরার ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো। এক সময় এই পুজো রসদ জোগাতেন মুসলিমরাই। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন এই পুজো।
উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার আদাহাটায় জমিদারি ছিল চাতরার ভট্টাচার্য পরিবারের। তাঁদের সিংহভাগ প্রজাই ছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের। জমিদার বাড়ির পুজোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতেন সাধারণ প্রজারাই। পুজোতেও তাঁরা সক্রিয় ভাবে অংশ নিতেন। সেই ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে প্রায় ৫০০ বছর ধরে পুজো হচ্ছে ভট্টাচার্য বাড়িতে। জমিদারি না থাকলেও এখনও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা পুজোর দিনে ফলমূল নিয়ে পঞ্চমীতে হাজির হন দেশগুরু ভট্টাচার্যের বাড়িতে।
শ্রীরামপুর স্টেশন থেকে রেললাইন ধরে কিছুটা এগোলেই, লাইনের পূর্ব দিকে দেশগুরু ভট্টাচার্যের বাড়ি। এই বাড়ির সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে রাজা রামমোহন রায়ের পরিবারের। রামমোহন রায়ের বাবা রামকান্ত রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ভট্টাচার্য পরিবারের কন্যা তারিণী দেবীর। ছেলেবেলায় মায়ের সঙ্গে শ্রীরামপুরের মাতুলালয়ে বেশ কয়েকবার এসেছেন রামমোহন। সেই স্মৃতি এখনও রয়েছে ভট্টাচার্য বাড়ির আনাচে কানাচে।
বাড়ির বংশধর শুভপ্রসাদ ভট্টাচার্য বলেন, 'আমার বাবা প্রয়াত পিনাকীপ্রসাদ ভট্টাচার্য করোনা কালে দেহ রাখেন। তারপর থেকে বাড়ির পুজোর দায়িত্ব আমার উপরে বর্তায়। মহালয়ার দিন থেকেই আমাদের পুজোর কল্প শুরু হয়। প্রতি বছর প্রতিমার বিসর্জন হলেও, মূল কাঠামোর কোনও পরিবর্তন হয় না। সংস্কার হয় মাত্র। উত্তর ২৪ পরগানার আমডাঙা থেকে মুসলিমরা পুজোর সামগ্রী নিয়ে হাজির হলেই পুজোর ষোলোকলা পূর্ণ হয়। রথযাত্রার দিন কাঠামো পুজো হয়। ঠাকুর দালানে মায়ের পুজো হয় নিষ্ঠার সঙ্গে। চণ্ডীপাঠও হয়।'