আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে আমেরিকা। উজবেকিস্তানের সমরকন্দ সফরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় বার্তা দিলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার থেকেই তিন দিনের সফরে ভারতে আসছেন তিনি; মুম্বইয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগারের শহর জামনগরেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জয়শঙ্করের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকের ঠিক আগেই রুবিওর এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতির ময়দানে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত দিচ্ছে। রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুই দেশই এখন চুক্তি বাস্তবায়নের একেবারে শেষ ধাপে রয়েছে এবং দ্রুত এটি কার্যকর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
আলোচনায় রুশ তেল ক্রয়ের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাম্প্রতিক ছাড়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মার্কিন বিদেশ সচিব। তিনি জানান, ওয়াশিংটন যখন রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তার নেপথ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি সামাল দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কাজ করে। একই সঙ্গে ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারের সঙ্গে এই প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবেচনাধীন অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে রুবিও বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান একেক দেশের জন্য একেক রকম বাস্তবতা তৈরি করে এবং বহু দেশের পক্ষেই রাতারাতি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন। তবে বিদেশনীতির ভারসাম্য বজায় রেখেই আমেরিকা এই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রস্তাবিত এই চুক্তি কেবল শুল্ক বা ট্যারিফ ছাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে যৌথ অংশীদারিত্বকে অভাবনীয় মাত্রায় বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের জটিল অর্থনৈতিক মতপার্থক্য ঘুচিয়ে দুই বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের কৌশলগত মৈত্রী যে আরও দৃঢ় হতে চলেছে, মার্কিন বিদেশ সচিবের এই মন্তব্য সেই বার্তাই জোরালোভাবে তুলে ধরল।
