শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।
ধানের জমিতে গিয়েছিলেন কীটনাশক স্প্রে করতে। কিন্তু জানতেন না জমির পাশের আইলেই লুকানো ছিল মরণ ফাঁদ। যে ফাঁদ পাতা হয়েছিল ইঁদুর নিধনের জন্য সেটিই কেড়ে নিল কৃষকের প্রাণ। ঘটনাটি বাগেরহাটের শরণখোলার উত্তর সাউথখালী গ্রামের।
আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত কৃষকের নাম মিজান হাওলাদার (৫০)। ইঁদুর মারার জন্য পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে প্রাণ গেছে তার। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর সাউথখালী গ্রামের কৃষক সালেক মোল্লা ও বাবুল মোল্লা তাদের জমির ইঁদুর নিধনের জন্য লোহার তারে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে জমির আইলে ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন। আজ দুপুরে মিজান তার নিজের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করতে যাচ্ছিলেন। তখনই ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
শরণখোলা থানার এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সালেক মোল্লা ও বাবুল মোল্লার জমির মাঝখানে মিজান হাওলাদারকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় মামলা হলে নেওয়া হবে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শরণখোলা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম মো. জাহিদ রেজা বলেন, বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কৃষকের মৃত্যুর বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়ে থাকলে সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মোস্তফা মশিউল আলম বলেন, ইঁদুর নিধনে জমিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে বিষটোপ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় কৃষকদের। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গ্রামে গ্রামে কৃষক সমাবেশও করা হয়। তবে অনেক কৃষক সেই পরামর্শ মানছেন না। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও সচেতন করা হবে।
