The Sangbad · সাধারণ
হরমোনের পরিবর্তনে চুলের যে সমস্যা দেখা দেয়
২৪/১০/২০২৬

বয়স বাড়ার
সঙ্গে চুলের
ঘনত্ব, গঠন
ও রঙে
পরিবর্তন আসতে
পারে।
বিশেষ করে
চল্লিশের কোঠায়
পৌঁছানোর পর
অনেক নারী
চুল পড়া,
শুষ্কতা, রুক্ষতা
কিংবা অকালপক্বতার
মতো সমস্যার
মুখোমুখি হন। এর পেছনে বয়সজনিত পরিবর্তনের
পাশাপাশি হরমোনের
ওঠানামাও ভূমিকা
রাখতে পারে।মেনোপজের আগের পর্যায় পেরিমেনোপজের সময়
শরীরে ইস্ট্রোজেনসহ
বিভিন্ন হরমোনের
মাত্রা পরিবর্তিত
হয়। এর
প্রভাব চুল
ও ত্বকেও
পড়তে পারে।
ফলে চুল
আগের মতো
ঘন ও
মসৃণ না
থাকা কিংবা
উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তন
দেখা দেয়।হরমোনের
পরিবর্তনে কেন পাতলা হয় চুল?স্বাস্থ্য ও জীবনধারাবিষয়ক একটি প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে,
চল্লিশের পর
নারীদের চুলের
ঘনত্ব, গঠন
ও রঙে
পরিবর্তন আসতে
পারে। এ
ক্ষেত্রে হরমোনের
তারতম্যের পাশাপাশি বয়সজনিত প্রক্রিয়াও প্রভাব
ফেলে।যুক্তরাষ্ট্রের ইউসিএলএ হেলথের
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ
ক্যারোলিন গোহের মতে, পেরিমেনোপজের সময়
ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে
চুলের বৃদ্ধির
স্বাভাবিক চক্রেও পরিবর্তন ঘটতে পারে। কোনো কোনো নারীর চুলের
ফলিকল বা
গোড়া ধীরে
ধীরে ছোট
হয়ে আসে।
এতে নতুন
চুল আগের
তুলনায় সরু
হতে পারে
এবং সামগ্রিক
ঘনত্ব কমে
যেতে পারে।চুল পাতলা
হওয়ার পরিচিত
একটি কারণ
হলো অ্যান্ড্রোজেনেটিক
অ্যালোপেসিয়া। নারীদের ক্ষেত্রে এটি ফিমেল-প্যাটার্ন হেয়ার
লস নামেও
পরিচিত। তবে
চল্লিশের পর
চুল পড়ার
সব কারণই
হরমোনজনিত নয়।চুলের আর্দ্রতা কমে হতে পারে রুক্ষ ও ভঙ্গুরবয়সের সঙ্গে
চুলের গঠনেও
পরিবর্তন দেখা
দিতে পারে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ডার্মাটোলজির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ
ডেন্ডি এঙ্গেলম্যানের
ব্যাখ্যা অনুযায়ী,
হরমোনের পরিবর্তন
চুলের ফলিকল
ও মাথার
ত্বকে প্রভাব
ফেলতে পারে।
মাথার ত্বকের
প্রাকৃতিক তেল উৎপাদন কমে গেলে
চুল শুষ্ক
ও ভঙ্গুর
হয়ে পড়তে
পারে।অন্যদিকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে চুলের
রঞ্জক তৈরির
প্রক্রিয়া ধীর হয়ে আসায় চুল
পেকে যেতে
পারে। তবে
সবার চুলে
একই ধরনের
পরিবর্তন ঘটে
না। বংশগত
বৈশিষ্ট্য, পুষ্টি, শারীরিক অবস্থা ও
পরিচর্যার অভ্যাসও চুলের স্বাস্থ্যে ভূমিকা
রাখে।চল্লিশের
পর চুলের যত্নে ৫ করণীয়১. চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করুনচুল শুষ্ক
হলে মৃদু
ও আর্দ্রতা
ধরে রাখতে
সহায়ক শ্যাম্পু
বেছে নিতে
পারেন। প্রয়োজন
অনুযায়ী শ্যাম্পু
করার বিরতিও
সামঞ্জস্য করা যেতে পারে। তবে
মাথার ত্বক
তৈলাক্ত হলে
বা খুশকির
সমস্যা থাকলে
পরিচর্যার নিয়ম আলাদা হতে পারে।
তাই নিজের
চুল ও
মাথার ত্বকের
অবস্থা বুঝে
পণ্য নির্বাচন
করা জরুরি।২. কন্ডিশনার ও হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুনচুলের রুক্ষতা
কমাতে এবং
সহজে আঁচড়ানোর
উপযোগী রাখতে
কন্ডিশনার সহায়ক। কেরাটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড
বা উদ্ভিজ্জ
প্রোটিনযুক্ত হেয়ার মাস্ক চুলের বাইরের
স্তর সাময়িকভাবে
মসৃণ করতে
পারে। এতে
চুলের ভঙ্গুরতা
কমাতেও সাহায্য
মিলতে পারে।
তবে এসব
উপাদান হরমোনজনিত
চুল পড়া
বন্ধ করে,
এমন নিশ্চয়তা
নেই।৩. তাপ ও রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিত করুনবারবার স্ট্রেইটনার, কার্লার বা অতিরিক্ত
গরম হেয়ার
ড্রায়ার ব্যবহার
করলে চুল
ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ঘন ঘন
রং করা,
ব্লিচ কিংবা
রাসায়নিক ট্রিটমেন্টও
চুল দুর্বল
করে দিতে
পারে। তাই
এসব ব্যবহারে
বিরতি দিন,
স্টাইল করার
সময় কম
তাপ ব্যবহার
করুন এবং
প্রয়োজনে হিট-প্রটেকট্যান্ট লাগান।৪. পুষ্টির ঘাটতি অবহেলা করবেন নাচুল পড়ার
পেছনে আয়রনের
ঘাটতি, থাইরয়েডের
সমস্যা এবং
কিছু ক্ষেত্রে
ভিটামিন ডি
বা জিঙ্কের
ঘাটতি ভূমিকা
রাখতে পারে।
তাই শুধু
হরমোনের পরিবর্তনকে
দায়ী না
করে প্রয়োজন
অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পরীক্ষা ছাড়া
নিজের ইচ্ছায়
ভিটামিন বা
খনিজের সাপ্লিমেন্ট
গ্রহণ করা
ঠিক নয়।৫. চুল পড়া বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিনহঠাৎ
চুল পড়া
বেড়ে গেলে,
সিঁথি ক্রমে
চওড়া হলে
কিংবা মাথার
নির্দিষ্ট অংশে চুল পাতলা হয়ে
এলে বিষয়টি
গুরুত্ব দিয়ে
দেখা উচিত।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ
কারণ নির্ণয়
করে প্রয়োজনীয়
চিকিৎসা
দিতে পারেন।
কিছু ক্ষেত্রে
মিনোক্সিডিল ব্যবহার করা হয়। তবে
এটি সবার
জন্য উপযুক্ত
নয়, তাই
ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
জরুরি।বয়সের সঙ্গে চুল বদলালেই অসুস্থতা নয়বয়স বাড়ার
সঙ্গে চুলের
রং, ঘনত্ব
ও গঠনে
পরিবর্তন আসা
স্বাভাবিক। তবে দ্রুত চুল পড়ে
যাওয়া, মাথার
ত্বকে প্রদাহ
কিংবা অল্প
সময়ে চুলের
ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে
কমে যাওয়াকে
শুধু বয়সের
প্রভাব ভেবে
উপেক্ষা করা
উচিত নয়।
সুষম খাদ্যাভ্যাস,
চুলের ধরন
অনুযায়ী পরিচর্যা
এবং প্রয়োজনমতো
চিকিৎসা
চুলের স্বাস্থ্য
বজায় রাখতে
সহায়ক হতে
পারে। চল্লিশের
পর চুলের
যত্নের মূল
বিষয় হলো,
আগের চেহারা
ধরে রাখার
চাপে না
থেকে চুলের
বর্তমান অবস্থা
বুঝে যত্ন
নেওয়া।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗