অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে কিংসমেডে ২১৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর ঘুরে দাঁড়াতে দক্ষিণ আফ্রিকা স্কোয়াডে এনেছে একটিমাত্র পরিবর্তন, যা ম্যাচের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। আগামী রবিবার সেন্ট জর্জেস পার্কে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ১৭ সদস্যের দলে ট্রিস্টান স্টাবসের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন ম্যাথু ব্রেজটকে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হওয়ার পর দলটিতে এটিই একমাত্র সংযোজন, বাকি স্কোয়াড অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ছন্দে না থাকায় বাদ পড়তে হয়েছে ট্রিস্টান স্টাবসকে। তার শেষ ১৬টি সম্পন্ন ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস ছিল কেবল দুটি—গত বছর অক্টোবরে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৬ এবং এর এক মাস পর গুয়াহাটিতে ভারতের বিপক্ষে ৯৪ রান। কিংসমেডের প্রথম টেস্টে তিনি করেন যথাক্রমে ৩২ ও ১ রান এবং উভয় ইনিংসেই প্যাট কামিন্সের বলে বাজে শটের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। কোচ শুকরি কনরাড জানিয়েছেন যে স্টাবস দুর্ভাগ্যবশত দল থেকে বাদ পড়েছেন, তবে তার জায়গায় সুযোগ পাওয়া ম্যাথু ব্রেজটকের সাম্প্রতিক ওয়ানডে ফর্ম দারুণ। গত মাসে ডারবানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ১০৬ বলে ১১২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার ৬৭ রানের জয়ে মূখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন ব্রেজটকে।
স্টাবস ও ব্রেজটকের ক্রিকেটীয় যাত্রা বেশ আবেগময়, কারণ তারা দুজনেই ইস্টার্ন কেপের গেবেরহার গ্রে হাই স্কুলের একই প্রাঙ্গণ থেকে উঠে এসেছেন এবং সেন্ট জর্জেস পার্ক তাদের কাছে ক্রিকেটের এক পবিত্র তীর্থস্থান। গত বছর সেপ্টেম্বরে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে তারা একসাথে ১২৬ বলে ১৪৭ রানের জুটি গড়ে দলের পাঁচ রানের জয়ে অবদান রেখেছিলেন। তবে ক্রিকেট যে কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, এবার তারই প্রমাণ মিলল যখন একসময়ের সতীর্থকে জায়গা করে দিতে দল থেকে বাদ পড়তে হলো স্টাবসকে।
দলের অন্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে টনি ডি জোরজিকে দ্বিতীয় টেস্টের বিবেচনায় রাখা হয়নি এবং সেন্ট জর্জেস পার্কে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব পালন করবেন রায়ান রিকেলটন। এর ফলে একাদশে নিজের স্থান হারাতে হয়েছে কাইল ভেরেইনকে। ভেরেইনের শেষ ১১টি এবং রিকেলটনের শেষ আটটি সম্পন্ন ইনিংসে কোনো হাফ সেঞ্চুরি না থাকলেও, রিকেলটনকে গ্লাভস হাতে ওপেনিংয়ে নামানো হবে নাকি ব্যাটিং অর্ডারে নিচে নামানো হবে, তা নিয়ে এখনও জল্পনা চলছে।
সিরিজের প্রথম টেস্টে হারের ক্ষত শুকিয়ে সেন্ট জর্জেস পার্কে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দল এখন প্রস্তুত। কাগিসো রাবাদার হ্যামস্ট্রিংয়ের পরিস্থিতি এবং কেশব মহারাজ ও সাইমন হার্মার স্পিন-বান্ধব ভেন্যুতে একাদশে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে পারেন কি না, তা নিয়ে ম্যাচের আগে দল চূড়ান্ত করার সময় আরও কিছু বিষয় খতিয়ে দেখবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
