মোংলায় মায়ের সামনে যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, হাসপাতালে ভর্তি
01/01/1970 12:00:00
মাসুদ রানা, মোংলা
মোংলায় চাঁদার দাবীতে মায়ের সামনে এক যুবককে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তুচ্ছ একটি ঘটনা নিয়ে তুলে এনে কয়েক প্রভাবশালী এমন ঘটনার ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগীরা। এসময় অসহায় বৃদ্ধা সন্তানকে বাঁচাতে গেলেও মারধরের হাত থেকে বাচাতে পারেনি মা রোকেয়া বেগম। তাদের বেধড়ক মারধরে পায়ের গোড়ালি ভেঙ্গে দেওয়ারও অভিযোগ করেন অসহায় মা রোকেয়া বেগম। ১৪ অক্টোবর দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও ভয়ে থানায় এজাহার দিতে দেয়নি প্রভাবশালীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫ বছর বয়সী যুবক কাওছার শেখকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার ৪ দিন পর ১৮ অক্টোবর বিকালে মোংলা থানায় এজাহার দাখিল করেছে।
থানার দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোংলা থানার সুন্দরবন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের গোড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ও মৃত জয়নাল সরদারের স্ত্রী বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম এলাকায় অত্যন্ত দরিদ্র জীবনযাপন করছেন। পূর্বে তার ছেলে কাওছার শেখের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি চুরির অভিযোগ তুলে ১৪ অক্টোবর দুপুরে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় স্থানীয় মহাসিন বেপারী, ইয়াসিন বেপারী, ইমরান হাওলাদার, আনোয়ার তালুকদার, সোহাগ হাওলাদার, জোবায়ের হাওলাদার ও রেজাউল হাওলাদার সহ এলাকার কয়েক প্রভাবশালী। তাকে গোড়া বুড়বুড়িয়া এলাকায় মহাসিনের মাছের ঘেরের ডিপুর মধ্যে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন ও মারধর করে। খবর পেয়ে তার মা ও স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করে।
এসময় তার কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ করেণ রোকেয়া বেগম। দরিদ্র পরিবারটি তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চুরির অপবাদ দিয়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে এবং ওই মুহুর্তে টাকা পরিষোধ করতে বলে প্রভাবশালীরা। ওই মুহুর্তে টাকা না দেয়ায় ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে লোকজনের সামনে কাওছারকে বেধরক মারধর করে। এসময় মা রোকেয়া বেগম তাকে বাচাতে গেলে ওই স্থান থেকে তাকে বের করে দিয়ে আরো মারধর করে কাওসারকে। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিত লুটিয়ে পরে যুবক কাওসার। এমন নির্যাতনে কাওছারের ডান পায়ের গোড়ালির হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।
ছেলের ওপর এই বর্বরোচিত নির্যাতনের পর ওই দিন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে প্রভাবশ্লীরা বৃদ্ধা মাকে ডেকে এনে কোথাও কোন অভিযোগ না করার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। আর জরিমানা এক লক্ষ টাকা জরিমানা পরিশোধ না করলে ছেলেকে এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেয়া হয়। পরবর্তীতে নিরুপায় বৃদ্ধা মা স্বজনদের সহায়তায় মুমূর্ষু অবস্থায় ছেলেকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
সন্ত্রাসীদের ভয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছেলেকে পাহারা দিয়ে বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম আকুল কণ্ঠে বিচার দাবি করে বলেন, আমরা অতি গরিব মানুষ। চুরির অভিযোগ তুলে তাদের কাছে জোর করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দেওয়ায় আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে হাড় ভেঙে দিয়েছে। আমি একজন বৃদ্ধা ও অসহায় মা, আমি এর উপযুক্ত বিচার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। প্রভাবশালীদের ভয়ে থানায় মামলা করতেও পারেনি পরিবারটি। ঘটনার ৪ দিন পর স্থানীয়দের সহায়তায় ১৮ অক্টোবর বিকালে মা রোকেয়া বেগম বাদি হয়ে মোংলা থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ বিষয়ে মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছি। অন্যায়ভাবে চাঁদা দাবি করা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে নির্যাতন করা গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তায় পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।
