ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে দেশটির ইভলিন জেলার ত্রাপ ও পার্শ্ববর্তী লা ভেরিয়ের এলাকায় চলন্ত গাড়ি থেকে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। ঘটনার পর সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে হামলাকারী গাড়িতে করে ত্রাপ ও লা ভেরিয়ের এলাকার বিভিন্ন স্থানে গুলি চালান। হামলার সময় একটি পেট্রোল পাম্প, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং শিশুদের খেলার স্থানের আশপাশেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং আহত হন আরও চারজন।
ত্রাপের মেয়র আলি রাবেহের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী বিভিন্ন স্থানে পরপর গুলি চালিয়েছিলেন। এতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়। অন্যদিকে, লা ভেরিয়েরের মেয়র নিকোলা দ্যাঁভিল জানান, আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে। শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়।
গুলিবর্ষণের খবর পাওয়ার পর ফরাসি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা অভিযান শুরু করে। পরে পার্শ্ববর্তী কোয়েনিয়ের এলাকায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে আটক করা হয়। তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে। হত্যাকাণ্ড, হত্যাচেষ্টা এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে হামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। তদন্তকারীরা হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র, সন্দেহভাজনের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা অনুসন্ধান করছেন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোরাঁ নুনেজ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনি ভিত্তি নির্ধারণে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
স্থানীয় মেয়র আলি রাবেহ হামলাটিকে সম্ভাব্য বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী সহিংসতা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, হামলাকারী অভিবাসী পটভূমির মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করে থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এবং ভুক্তভোগীদের লক্ষ্যবস্তু করার পেছনে কোনো বর্ণবাদী বা উগ্রবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।
ঘটনার পর ফরাসি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তৎপরতা বেড়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোরাঁ নুনেজ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন। সরকার জানিয়েছে, হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জনবহুল এলাকায়, বিশেষ করে শিশুদের চলাচলের স্থানের আশপাশে এ ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার পেছনে বর্ণবাদী বিদ্বেষ বা অন্য কোনো উগ্রবাদী মতাদর্শ কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তদন্তকারীরা ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, সন্দেহভাজনের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য, ভুক্তভোগীদের লক্ষ্যবস্তু করার কারণ এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধান করছেন। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
The post প্যারিসের উপকণ্ঠে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ১, আহত ৪ appeared first on ভোরের চেতনা.
