Published on
:
2 min read
সমীর মণ্ডল, মেদিনীপুর
দাম বেড়েছে মাটির। তাই কমাতে হয়েছে উৎপাদন। এ দিকে, এলাকায় ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজো (Laxmi Puja 2026) হয় তাই মাটির মূর্তির সঙ্গে গড়তে হয় লক্ষ্মীর পটও। কিন্তু প্রত্যেকবার লক্ষ্মী লাভ হলেও এ বার চিন্তায় রয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। কাঁচামালের অভাবে চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত ছাঁচের লক্ষ্মীপ্রতিমা তৈরি করতে পারছেন না মেদিনীপুরের শিল্পীরা।
মেদিনীপুর শহরের খয়রুল্লাচকে এক শিল্পীদের কথায়, ‘এই প্রতিমা তৈরির জন্য মূলত ডায়মন্ড হারবার ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি আনতে হয়। কিন্তু এ বার সেই মাটির দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। গত বছর এক গাড়ি মাটি কিনতে খরচ হয়েছিল প্রায় ২৫ হাজার টাকা, এ বার তার জন্যই গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।’ দ্বিগুণেরও বেশি দাম দিয়েও পর্যাপ্ত মাটি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ শিল্পীদের।
শিল্পী সোনালি দাস বলেন, ‘আগে থেকেই মাটি সংগ্রহ করে মজুত রাখতে হয়। অন্য বছর যেখানে পাঁচশোর বেশি ছাঁচের লক্ষ্মীপ্রতিমা তৈরি করতাম, এ বার মাটির অভাবে উৎপাদন কমাতে হয়েছে। গত বছর ছোট ছাঁচের লক্ষ্মীপ্রতিমা পাইকারি দরে ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করেছি। এ বার সেই প্রতিমার দাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। মাঝারি ও বড় প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে ৫০০, ৭০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত।’ পাইকারি বাজারেই দাম বাড়ায় খুচরো বাজারে প্রতিমার দাম আরও বেশি হচ্ছে।
শিল্পী লক্ষ্মী পালের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি বলেন, ‘অন্য বছর আড়াই থেকে তিন হাজার ছাঁচের লক্ষ্মীপ্রতিমা তৈরি করি। এ বার হাজারখানেকের মতো তৈরি করতে পেরেছি। চাহিদা রয়েছে, কিন্তু মাটির অভাবে প্রতিমা বানাতে পারছি না। ফলে রোজগারও কম হবে।’ শিল্পী পুষ্পরানি দে জানান, মাটির এই সঙ্কট শুধু লক্ষ্মীপ্রতিমা নির্মাতাদের নয়, মাটির প্রদীপ ও ভাঁড় তৈরি করা শিল্পীরাও সমস্যায় পড়েছেন। সারা বছর লক্ষ্মীপুজোর মরশুমে বাড়তি আয়ের আশায় থাকেন তাঁরা। কিন্তু এ বার উৎপাদন কমে যাওয়ায় সেই আশায় ধাক্কা লেগেছে।
তবে দাম বাড়লেও পুজো বন্ধ করতে নারাজ সাধারণ মানুষ। মেদিনীপুরের গৃহবধূ অর্পিতা দাস বলেন, ‘প্রতিমার দাম যাই হোক, পুজো তো করতেই হবে। দাম বাড়লে পুজো বন্ধ করে দেবো, তা তো আর হয় না।’ সব মিলিয়ে মাটির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও জোগানের ঘাটতিতে এ বার লক্ষ্মীপুজোর বাজারে ছাঁচের প্রতিমার দাম বেড়েছে। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন কমায় মৃৎশিল্পীদের রোজগার কতটা হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
