ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানালেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম থেকে সরে না যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। বরং বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে এ কার্যক্রম আরও জোরালোভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
নির্ধারিত সময়ের আগেই জাতীয় প্রেসক্লাবে পৌঁছান ইশরাক। তাঁকে ঘিরে সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় কয়েকজনের হাতে ফুলের তোড়াও দেখা যায়। প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকেরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। পরে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ভবনের তৃতীয় তলায় আবদুস সালাম হলে যান তিনি। সেখানেও নেতা-কর্মীদের স্লোগান চলতে থাকে।
এর আগে সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক বার্তায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান ইশরাক। দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে এসে তিনি সেই ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
পদত্যাগের কারণ নিয়ে আগের বক্তব্যে ইশরাক জানিয়েছিলেন, বিশেষ কারণে তাঁকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, দল তাঁর পদত্যাগ চায়নি; তিনি নিজেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। তবে কী কারণে পদ ছাড়ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
পদত্যাগের পর নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন ইশরাক। তিনি জানান, সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আরও বেশি উদ্যম নিয়ে কাজ করবেন। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং দেশজুড়ে প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের কথাও উল্লেখ করেন।
মাদক নির্মূলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, মন্ত্রীর পদ নয়, মাদক নির্মূলই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যে পদ ছাড়ার পরও মাদকবিরোধী তৎপরতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এর আগে রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাকের উপস্থিতির একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরপরই তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে। তবে পদত্যাগের ঘোষণার পরও এ সিদ্ধান্তের পেছনের বিশেষ কারণ সম্পর্কে তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
মাতৃভূমির খবর
- বিষয়:
- ইশরাক হোসেন
- পদত্যাগ
- মন্ত্রিসভা

