Published on
:
2 min read
চোরবাগানের ঘটনায় আটক করা হলো আরও এক ঘোষককে। তাঁর নাম কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া। চোরবাগানের প্যান্ডলে দু’জন ঘোষক ছিলেন। বৃহস্পতিবারই নদিয়া থেকে সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু নামে এক ঘোষককে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার সকালে গিরিশ পার্ক থেকে আটক করা হয় কালিয়াকে। যদিও কুশলের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমে জানান, তাঁর স্বামী থানায় গিয়ে সারেন্ডার করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর দাবি, মাঠের কিছু সদস্য তাঁর স্বামীকে সামনে না আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ও যে হেতু কোনও দোষ করেনি, তাই তিনি ঠিক করেন আত্মসমর্পণ করবেন। বৃহস্পতিবার রাতেই সারেন্ডার করেন।
১৭ অক্টোবর, প্রথম সপ্তমীর দিন চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন ২৫ জন। গোড়া থেকেই কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এত বড় পুজো, ক্রাউড ম্যানেজমেন্টের জন্য আদৌ কোনও ব্যবস্থা কি ছিল? কারণ, বিগ বাজেটের পুজো করলে, সেখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড় হবে, সেটাই স্বাভাবিক। তার জন্য যে নজরদারির দরকার, তা কি আদৌ করেছিল ওই পুজো কমিটি?
এক নজরে
চোরবাগান প্যান্ডেল কাণ্ডে কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া নামে দ্বিতীয় ঘোষককে গিরিশ পার্ক থেকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু নামে আর এক ঘোষককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
গত ১৭ অক্টোবর প্রথম সপ্তমীর দিন চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু ও ২৫ জন আহত হন।
সপ্তমীর রাতে বৃষ্টির মধ্যে মাইকে ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে ঘোষণা করায় দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে অভিযোগ।
বিশাল বাজেটের এই পুজোর ভিড় সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট বা নজরদারি কেন ছিল না, তা নিয়ে পুজো কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একই সঙ্গে প্রথম থেকেই ঘোষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। অভিযোগ, সপ্তমীর সন্ধেয় যখন তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে কলকাতায়, সেই সময়ে চোরবাগানের পুজো কমিটির মাইকে বার বার ঘোষণা করা হচ্ছিল ‘মণ্ডপ পড়ে যাচ্ছে, মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। আপনারা বেরিয়ে যান। মণ্ডপের অবস্থা খুব খারাপ’। তা শুনে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যায়, তার জেরে বাইরে বেরনোর জন্য তুমুল হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে অভিযোগ। ওই ঘোষণার ফলেই দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
কিন্তু কেউ বা কারা কি ঘোষকদের এই কথা জানাতে বলেছিল? নাকি ঘোষকরা নিজেরাই উপযাচক হয়ে এই কথাগুলি মাইকে বলতে থাকেন? ওইরকম সরু, ঘুপচি, অন্ধকার প্যান্ডেলের ভিতরে যখন এতগুলো মানুষ, তখন পুজো কমিটির লোকেরা কেন আরও দায়িত্ববান হলেন না, এ রকম একাধিক প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
কুশল ওরফে কালিয়ার স্ত্রী সংবাদমাধ্যমে জানান, মণ্ডপ ভেঙে পড়ার কথা তাঁর স্বামীকে ঘোষণা করতে বলা হয়েছিল। কে বলেছিলেন, সেই নামও তাঁর স্বামী জানেন।
FAQs
প্রশ্ন: চোরবাগান পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় কতজন মারা গিয়েছেন?
উত্তর: ১৭ অক্টোবর প্রথম সপ্তমীর দিন কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ জন জখম হয়েছেন।
প্রশ্ন: চোরবাগানের ঘটনায় পুলিশ কাকে আটক করেছে?
উত্তর: পদপিষ্টের ঘটনায় মণ্ডপের ঘোষক কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়াকে গিরিশ পার্ক থেকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে নদিয়া থেকে সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু নামের আরেক ঘোষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
প্রশ্ন: দর্শনার্থীদের মধ্যে কেন আতঙ্ক ছড়িয়েছিল?
উত্তর: বৃষ্টির সময় মণ্ডপের মাইক থেকে বার বার ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে, আপনারা বেরিয়ে যান’—এমন ঘোষণা করায় দর্শনার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে অভিযোগ।