মহারাষ্ট্র, ২৫ অক্টোবর: ঘরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ! মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ভাড়া নেওয়া ঘরের মধ্যে জাল নোট ছাপানোর অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘর থেকে প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকার জাল ৫০০ টাকার নোট উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে আংশিক ছাপানো নোট, প্রিন্টার এবং নোট তৈরির অন্যান্য সামগ্রীও। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া নোট ও সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা বলে আশঙ্কা করা গিয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়।
পুলিশ মারফত জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম পুষ্পক কৃষ্ণ ভান্ডারকর ওরফে বেন্দানে। নাগপুরের ত্রিমূর্তি নগরের বাসিন্দা তিনি। প্রায় দেড় বছর আগে নাগপুরের খারবি এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন অভিযুক্ত। এরপর ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ জানুয়ারি মাসে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি ঘরটি ছাড়েননি। পাশাপাশি বেশ কয়েক মাস ধরে ভাড়াও দিচ্ছিলেন না সে। অপরদিকে ঘর খালি করে দেওয়ার কথা বললে বাড়ির মালিক রমেশকে অভিযুক্ত ছুরি দেখিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এরপর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি নন কগনিজেবল অভিযোগ দায়ের করা হয়।
জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক দিন ধরে ভাড়াটিয়ার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় গতকাল হাতুড়ি দিয়ে ঘরের তালা ভাঙেন বাড়ির মালিক। ঘরের ভিতরে ঢুকে একটি বালতির মধ্যে প্রচুর নোটের বান্ডিল দেখতে পান সে। ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিল কাগজের শিট। সেখানে বসানো ছিল একটি প্রিন্টারও। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেই সময়েই পুলিশকে খবর দেন বাড়ির মালিক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ঘর তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ জাল ৫০০ টাকার নোট এবং নোট ছাপানোর সরঞ্জাম। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া নোটের পরিমাণ খতিয়ে দেখতে নোট গোণার মেশিন আনা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকার জাল নোট ছাপানো হয়েছিল। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে এমন কিছু নোট, যার একদিকে ছাপা থাকলেও অন্যদিকটি ফাঁকা ছিল। এই আংশিক ছাপানো নোট এবং অন্যান্য সামগ্রী সহ মোট উদ্ধার হওয়া জিনিসের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা। সমস্ত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে তদন্তকারী দল। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। বিশেষ সূত্রে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অভিযুক্ত মুম্বইয়ে রয়েছেন। তাঁকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করতে মুম্বইয়ে পুলিশের একটি দল পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে ইতিমধ্যেই। পাশাপাশি জাল নোট ছাপানোর এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কী না, কীভাবে এই কারবার চলছিল এবং এর পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কী না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
