লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক ব্যক্তিকে আটকের পর মারধর ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে করা মামলায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের পর এ নির্দেশ দেওয়া হয়।রোববার (১১ অক্টোবর) অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর রায়পুর উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের বর্ডার বাজার এলাকায় রায়পুর-চাঁদপুর সড়ক থেকে আবদুর রহিম রনিকে আটক করা হয়। তাঁর সঙ্গে গরু বিক্রির ৯০ হাজার টাকা ছিল, যা পুলিশ সদস্যরা নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাঁকে মারধর করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় রনির স্ত্রী রিনা আক্তার ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। অভিযুক্তরা হলেন রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু হানিফ, নুরুল ইসলাম ও মো. আবু হানিফ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সফিক মিয়া ও সাখাওয়াত হোসেন এবং কনস্টেবল আতিক উল্যা ও ইউসুফ ঢালি।মামলাটি প্রথমে জেলা পুলিশ, পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং সর্বশেষ সিআইডি তদন্ত করে। প্রতিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই বাদীপক্ষ নারাজি জানায়। চলতি বছরের ২ জুলাই সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিলে ১৭ আগস্ট এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানান বাদী।
বাদীপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, তদন্তে রায়পুর থানা ও হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজের হার্ডডিস্ক জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি। সাক্ষীদের জবানবন্দিও যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এসব কারণে সিআইডির প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করা হয়।
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্র, কার্তুজ, দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও গাঁজাসহ রনিসহ দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বাদীপক্ষের আবেদন গ্রহণ করে আদালত এবার মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
