স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, ‘জীবে প্রেম করে যে জন, সেজন সেবিছে ঈশ্বর’। সেই মন্ত্রেই বিশ্বাসী রশ্মিকা মন্দানা। বিশেষ করে বিয়ের পর থেকে আরও বেশি করে মানবসেবায় মন দিয়েছেন নায়িকা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজকীয় বিয়ের পর দেশজুড়ে বিভিন্ন মন্দিরে অন্নদান ও মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করেছিলেন। এবার চারশো পরিবার দত্তক নিয়ে বিরাট এক উদ্যোগ নিলেন রশ্মিকা (Rashmika Mandanna)।
অভিনেত্রীর কথায়, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবসময় বড় কিছু করার প্রয়োজন নেই। ছোট্ট কোনও উদ্যোগও কারও জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”
আগামী একবছরের জন্য ওই চারশো পরিবারের অন্নসংস্থান করবেন অভিনেত্রী। এক সোশাল মিডিয়া পোস্টে নিজেই সেখবর ভাগ করে নিয়ে রশ্মিকা জানিয়েছেন, আগামী একবছর প্রতি তিন মাসের ব্য়বধানে ওই পরিবারগুলির কাছে পৌঁছে যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। তালিকায় , ৭৫ কেজি চাল, ১০ কেজি আটা, ৩ কেজি রাগি, ১০ লিটার ভোজ্যতেল, ১৫ কেজি ডাল, ২ কেজি সোয়াবিন-সহ নুন, হলুদ, চিনি, লঙ্কাগুঁড়ো, হলুদ, চাপাতা তো রয়েছে। হায়দরাবাদ, মহাবুবনগর, ব্যাঙ্গালুরু, কোচি, চেন্নাই, কোডাগু, বিজয়ওয়াড়ার মতো বিভিন্ন জায়গার দুস্থ পরিবারগুলি এই পরিষেবা পাবেন। রশ্মিকার মন্তব্য, “এযাবৎকাল এই কাজগুলি আমি অগোচরেই করতাম, তবে এবার সোশাল মিডিয়ায় জানালাম, কারণ আমার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যদি আরও পাঁচজন একাজ করেন, তবে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।”
রশ্মিকা এইমুহূর্তে তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘রানাবলী’র প্রচারে ব্যস্ত। দিন কয়েক আগেই স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্দ্রার সঙ্গে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গেও দেখা করে এসেছেন। এবার আগামী একবছরের জন্য চারশো পরিবারের অন্নদাত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন রশ্মিকা। এহেন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করে ইনস্টা পোস্টে রশ্মিকা মন্দানা লিখেছেন, “আপনারা অনেকেই জানতে চান, জয়াম্মা আর আমার মধ্যে কোনও মিল রয়েছে কি না? হ্যাঁ, আছে। আর এটাও তারই একটি উদাহরণ। আমি যেমন, জয়াম্মাও ঠিক তেমনই।” রশ্মিকা জানিয়েছেন, তাঁর এই কাজ দেখে যদি অনুরাগীরা অন্যদের সাহায্য করতে অনুপ্রাণিত হন, তা হলেই তাঁর এই উদ্যোগ সার্থক হবে। অভিনেত্রীর কথায়, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবসময় বড় কিছু করার প্রয়োজন নেই। ছোট্ট কোনও উদ্যোগও কারও জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।” এহেন উদ্যোগের জন্য রশ্মিকাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন অনুরাগীরা।
