পুজোর ভিড়ে হাত ছাড়লেই বিপদ! হারিয়ে যেতে পারে শিশু। নিখোঁজ হয়ে যেতে পারেন প্রবীণরাও। নিখোঁজ শিশু বা বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের সন্ধান পেতে পঞ্চমী, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই রাস্তায় নামছে ‘বন্ধু কলকাতা’। এজন্য আজ, বৃহস্পতিবারই লালবাজারে ‘বন্ধু’ কলকাতা’র দশটি গাড়ির উদ্বোধন করবেন লালবাজারের আধিকারিকরা। সেই গাড়ির শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরবে বলে জানা গিয়েছে।
বিকেল চারটে থেকে দশটি ডিভিশন, অর্থাৎ সারা শহরজুড়েই ঘুরবে এই গাড়িগুলি। গাড়িগুলির ভিতর সাজানো হবে বেলুন দিয়ে। আবার গাড়িতেই থাকবে চিপস বা চকোলেট।
লালবাজার জানিয়েছে, পুজোর ভিড়ে সমস্যায় পড়ে নাবালক-নাবালিকা ও প্রবীণরা। প্রবল ভিড়ের মধ্যে মণ্ডপ বা অনেক সময় রাস্তায়ও নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে শিশু বা বালক-বালিকারা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর হতভম্ব হয়ে যায়। এহেন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়াবে ‘বন্ধু কলকাতা’র গাড়ি। এই ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন রাজ্য সরকারের কয়েকটি দপ্তর ও এনজিও। প্রত্যেক গাড়িতে থাকছেন একজন করে সাব ইন্সপেক্টর বা অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর, একজন কনস্টেবল, একজন মহিলা কনস্টেবল, একজন এনজিও-র কর্মী।
জানা গিয়েছে, বিকেল চারটে থেকে দশটি ডিভিশন, অর্থাৎ সারা শহরজুড়েই ঘুরবে এই গাড়িগুলি। গাড়িগুলির ভিতর সাজানো হবে বেলুন দিয়ে। আবার গাড়িতেই থাকবে চিপস বা চকোলেট। নিখোঁজ শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ওই চিপস বা চকোলেট। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করবেন পুলিশকর্মীরা। বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে ‘বন্ধু কলকাতা’ ঘুরে দেখবে, কোনও শিশু বা প্রবীণ নিখোঁজ হয়েছে কি না। ওই গাড়িতে থাকা পুলিশকর্মীরা তাঁদের থানায় নিয়ে যাবেন। শিশুদের থানার চাইল্ড ফ্রেন্ডলি রুমে নিয়ে যাওয়া হবে। নিখোঁজ শিশু এবং প্রবীণদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন থানার মহিলা পুলিশকর্মীরা।
এর পর থানার পুলিশকর্মীরা নজর রাখবেন, কোনও নিখোঁজের তথ্য আসছে কি না। পুজো মণ্ডপে গিয়ে অভিভাবকরা নিখোঁজের বিষয়টি জানালে তা সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হবে। সেই থানা থেকে কলকাতার প্রত্যেকটি থানায় খবর যাবে। সেই সূত্রেই অভিভাবকদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে শিশু বা প্রবীণদের। আবার ভোররাত পর্যন্ত এই গাড়িগুলি ঘুরে ঘুরে দেখবে রাস্তায় কেউ নিখোঁজ হয়েছে কি না। তাদেরও ‘বন্ধু কলকাতা’ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
